(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদব (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
কলকাতায় পা দিয়েই আইপ্যাককাণ্ড নিয়ে একযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ই়ডি এবং বিজেপিকে আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর কণ্ঠে বার বার শোনা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। শুধু তা-ই নয়, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন। অখিলেখ আত্মবিশ্বাসী, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হারবে বিজেপি। আবার ফুটবে ঘাসফুল।
পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছেন এসপি-প্রধান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিম্পল যাদবও। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মমতা ইডি-কে হারিয়েছেন। এ বার পালা বিজেপির! তাঁর কথায়, ‘‘দিদি ইডি-কে হারিয়েছেন, আবার বিজেপিকেও হারাবেন।’’ খোঁচা দেন পেনড্রাইভ নিয়েও। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি এখনও পেনড্রাইভের যন্ত্রণা ভুলতে পারেনি।’’
গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি অভিযানের সময় দু’জায়গাতেই পৌঁছে যান মমতা। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। উল্লেখ্য, আইপ্যাক বর্তমানে তৃণমূলের ভোটসংক্রান্ত কাজকর্ম দেখে। আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীকের বাড়ি থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র, ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মমতাকে। সেই তালিকায় ছিল একটি পেনড্রাইভও। তৃণমূল বার বার দাবি করছে, আইপ্যাক দফতরে দলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। সেগুলি ‘বাজেয়াপ্ত’ও করতে চেয়েছিল ইডি। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, ইডি-কে কাজে লাগিয়ে বিজেপি তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা হাতাতে এসেছিল। পেনড্রাইভ নিয়ে এসে সেই তথ্য বিজেপির হাতে যেতে দেননি মমতা! সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি-কে খোঁচা দিলেন অখিলেশ।
এসপি-প্রধানের মতে, ‘‘সারা বিশ্বে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রেম এবং মানবতার বার্তা প্রচারিত হয়েছিল। তাই এখানে হিংসার রাজনীতি পরাস্ত হবে। দিদির কাছে আবার হারবে বিজেপি।’’ এসআইআর দিয়ে ভোট কাটার ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি, দাবি অখিলেশের। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিজেপির এই এসআইআর প্রক্রিয়া ভোট বাড়ানোর জন্য নয়। বরং ভোট কাটার জন্য।’’
কমিশনের নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন সপা প্রধান। তাঁর দাবি, ‘‘সাংবিধানিক সংস্থা কমিশন। তাদের সব সময় নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা উচিত। কোথাও কোনও অভিযোগ বা সমস্যা হলে, তা সমাধান করা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, ‘‘নির্বাচন কমিশন সর্বত্র ভোট কাটার ষড়যন্ত্র করছে। পশ্চিমবঙ্গও বাদ নেই। দিদি এই রাজনীতিকে পরাস্ত করে ছাড়বেন।’’
মঙ্গলবার মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নবান্নে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অখিলেশের। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও পক্ষই এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি।