(বাঁ দিকে) সিভি আনন্দ বোস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাতের পর বললেন, ‘‘ওঁর (সিভি আনন্দ বোস) উপর অবিচার হয়েছে। অন্যায় হয়েছে।’’ আচমকা রাজ্যপালের পদ থেকে বোসকে সরিয়ে দেওয়া ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মনে করেন মমতা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আনন্দ বোস। তাঁর আচমকা ইস্তফা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রীও এ নিয়ে সরব হন। রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে বার বার এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এ ভাবে রাজ্যপাল বদল করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এর নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন। সেই একই বিষয় মঙ্গলবারও বললেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়নি। এখনও দেড় বছর বাকি। নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’
ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধর্না শেষের ঘোষণার পরই মমতা জানান, তিনি বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। সেইমতো ধর্মতলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান আলিপুরে। সেখানকার এক অতিথিশালায় রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী রাজ্যপাল। সাক্ষাতের পর মমতা বলেন, ‘‘উনি কাল চলে যাচ্ছেন। তাই ওঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। আমরা একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছিলাম। আমার সঙ্গে ওঁর ভাল সম্পর্ক ছিল।’’
নতুন রাজ্যপাল হিসাবে এখনও শপথ নেননি আরএন রবি। বুধবার তিনি রাজ্যে আসছেন। বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। তা হলে রাজ্যে এসেও লোকভবনে না-উঠে বিদায়ী রাজ্যপাল কেন আলিপুরের অতিথিশালায় উঠলেন? তা নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘ওঁর শিষ্টাচার।’’
মমতা আরও জানান, শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল বোসের। সে জন্য তাঁকে বিমানও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাগডোগরা না-গিয়ে তাঁকে দিল্লি যেতে হয়।
বোসের ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি নিজে জানিয়েছিলেন, অনেক ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এ-ও দাবি করেন, ইস্তফা দেওয়ার জন্য এটিই সঠিক সময় বলে তাঁর মনে হয়েছে।