Medinipur Municipality

খড়্গপুরের পর কি মেদিনীপুর পুরসভাতেও পুরপ্রধান বদল? দলের উপরমহলে নালিশ কাউন্সিলরদের

মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানের বিরুদ্ধে কিছু দিন আগেই তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন দলেরই এগারো জন কাউন্সিলর।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২৪
Share:

মেদিনীপুর পুরসভা। নিজস্ব চিত্র।

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে খড়্গপুর পুরসভার পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার ইস্তফা দিয়েছেন আগেই। এ বার আর এক তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা মেদিনীপুরেও পুরপ্রধান বদল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

Advertisement

জেলা তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, খড়্গপুর পুরসভায় কী হয়, তার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন মেদিনীপুর পুরসভার কাউন্সিলরদের একাংশ। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানের বিরুদ্ধে কিছু দিন আগেই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তৃণমূলের এগারো জন কাউন্সিলর। গত শনিবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠে পুরসভার উদ্যোগে দুর্গাপুজোর শারদ সম্মান, কার্নিভাল এবং মহরমের শোভাযাত্রার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানমঞ্চে স্থানীয় বিধায়ক জুন মালিয়া উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু শাসকদলের কাউন্সিলরদের একাংশকে সেখানে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর পুরসভার বর্তমান পুরবোর্ডে ২৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২০ জনই তৃণমূলের। দলের একাংশের দাবি, কাউন্সিলদের মধ্যে দু’টি শিবির রয়েছে। একটি শিবিরের নেতৃত্বে পুরপ্রধান সৌমেন খান। পুরপ্রধানের সঙ্গে ৯ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। অন্য শিবিরের মাথায় রয়েছেন তৃণমূলের শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ১১ জন কাউন্সিলর। সম্প্রতি এই ১১ জন কাউন্সিলর পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যানের কাজে খুশি নন বলে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জানিয়ে এসেছেন।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে বিশ্বনাথ বলেন, ‘‘কাউন্সিলররা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গেও তিন বার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দু’বার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং এক বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকে খোঁজখবর নিয়েছেন। সমস্যার কথা দলকে জানানো হয়েছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাই মেনে নেওয়া হবে।”

তবে বর্তমান পুরবোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কোনও বিরোধ আছে কি না, তা খোলসা করতে চাননি বিশ্বনাথ। প্রশ্নের উত্তরে শুধু বলেছেন, “মতবিরোধ থাকতে পারে, তবে তা দলের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়া হবে।”

Advertisement

চেয়ারম্যান বদলের এই গুঞ্জন প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, “কিছুদিন আগে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন কয়েক জন কাউন্সিলর। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব কিছু নির্দেশ দিলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।”

যাঁকে নিয়ে এত বিতর্ক, সেই সৌমেনের অবশ্য দাবি, দল কিংবা পুরসভায় তাঁর সঙ্গে কারও কোনও মতবিরোধ নেই। তাঁর কথায়, “চেয়ারম্যান পদে বসার পর থেকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। শহরকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে রাখার জন্য কাউন্সিলররা কাজ করছেন। কোনও মতবিরোধ নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছেন। নেত্রী এবং দল যা নির্দেশ দেবে, তা তিনি মানবেন বলে জানিয়েছেন পুরপ্রধান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement