ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের কলাবনিতে হাতির রাস্তা পারাপার। মঙ্গলবার বিকেলে। নিজস্ব চিত্র।
এলাকায় এসেছে হাতির দল। তা দেখতে গিয়ে হাতির হানায় বেঘোরে প্রাণ গেল এক যুবকের। মঙ্গলবার বিকেলে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া রেঞ্জের গোবিন্দপুর জঙ্গল এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম লালমোহন মাহাতো (২০)। তাঁর বাড়ি গোবিন্দপুর গ্রামেই। চলতি মাসেই ঝাড়গ্রাম ডিভিশনে হাতির হানায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বন দফতর সূত্রে খবর, হাতির দলটিতে কয়েকটি ছোট ছোট শাবক রয়েছে। ফলে হাতির কাছাকাছি গেলেই শাবকের সুরক্ষার জন্য তাড়া করছে দলটি।
সোমবার ভোরে মেদিনীপুর ডিভিশনের চাঁদড়া রেঞ্জ থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে ২২ থেকে ২৫টি হাতির একটি দল মানিকপাড়া রেঞ্জের গোবিন্দপুর জঙ্গলে ঢোকে। এ দিন দুপুরে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া সেরে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে হাতি দেখতে গিয়েছিলেন লালমোহন। ওই সময় দলের একটি হাতি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়নোর সময় পড়ে যান লালমোহন। কাড়ামারা ক্যানেল ব্রিজের সামনে হাতিটি শুঁড় দিয়ে তাঁকে তুলে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই লালমোহন গুরুতর জখম হন। হাতিটি জঙ্গলে ঢুকে গেলে বনকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যু হয়।
গত শনিবার রাতে পুকুরিয়া বিটের মাসাংডিহি গ্রাম থেকে হরিনাম সংকীর্তন দেখে ফেরার পথে আঁধারিশোল এলাকায় দলছুট হাতির আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছিলেন সাইবানী নায়েক নামে এক মহিলা। এ দিন সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে মৃতের দাদা করুণাসিন্ধু মাহাতো বলেন, ‘‘ভাই হাতি দেখতে গিয়েছিল। আচমকা হাতি তাড়া করে। শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে। পরে হাসপাতালে মারা যায়।’’ লালমোহন মাধ্যমিক পাশ করার পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। দাদা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ছোট ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘‘জঙ্গলে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছিল। তুবও অন্য দিক দিয়ে ঢুকে ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মানুষজনকে আরও সচেতন করা হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে