শহরে সর্বদল

জেলায় অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হোক, সর্বদলীয় বৈঠকে জানিয়ে দিল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। ছিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভাদনা বরুণ চন্দ্রশেখর, ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার সুপার সুখেন্দু হীরা প্রমুখ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৬ ০১:৩৬
Share:

মেদিনীপুর কালেক্টরেটে চলছে সবর্দলীয় বৈঠক। ছবি: সৌমেশ্বর মণ্ডল।

জেলায় অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হোক, সর্বদলীয় বৈঠকে জানিয়ে দিল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। ছিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা, পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভাদনা বরুণ চন্দ্রশেখর, ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার সুপার সুখেন্দু হীরা প্রমুখ। বৈঠকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষেই সওয়াল করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement

কালেক্টরেটের সভাকক্ষে এই বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের শ্যামপদ পাত্র, প্রণব বসু, সিপিএমের পঙ্কজ চক্রবর্তী, অশোক ঘোষ, কংগ্রেসের বিকাশ ভুঁইয়া, কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে জেলায় সুষ্ঠু নির্বাচন করার দাবি জানান বিরোধী দলের নেতৃত্ব। তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি তথা জেলার শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদবাবুও বলেন, “জেলায় সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এটা আমাদেরও দাবি। মানুষ নিজের ভোট নিজে দিক। তাহলেই হল।” পশ্চিমবঙ্গে এ বার ভোট হবে ছয় দফায়। যদিও প্রথম দফার ভোট দু’দিনে থাকায় আদতে তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সাত দফাতেই। প্রথম দফার ভোট ৪ এবং ১১ এপ্রিল। ৪ এপ্রিল যে সব কেন্দ্রে নির্বাচন, সেই সব কেন্দ্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে আজ, শুক্রবার থেকেই। ১১ এপ্রিল যে সব কেন্দ্রে নির্বাচন, সেই সব কেন্দ্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৪ মার্চ।জেলা প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, মূলত মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানাতেই এ দিন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়। জানানো হয়, মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় কী কী সমস্যা সাধারণ ভাবে দেখা দেয়, কী ভাবেই বা সেই সব সমস্যা এড়ানো সম্ভব। কোন দিকগুলোয় বেশি নজর রাখা উচিত।

গত বিধপশ্চিম মেদিনীপুরের ১৯টি আসনের মধ্যে ৯টি দখলে ছিল তৃণমূলের। এক সময় তৃণমূলের অধিকাংশ জেলা নেতৃত্ব মনে করেছিলেন, এ বার ১৯টি আসনের মধ্যে ১৭টি আসনেই দলের সহজ জয় আসবে। বাম- কংগ্রেসের আসন সমঝোতা এগোনোর পর তাঁদের চিন্তা বেড়েছে। শাসক দলের নেতারা নতুন করে অঙ্ক কষতে শুরু করে দিয়েছেন। তৃণমূলের একাংশ জেলা নেতৃত্বের ধারণা, খুব কম করে হলেও ৯টি আসনে দলকে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে পড়তে হবে। এদিনের বৈঠকে শাসক দলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সরব হয় বিরোধীরা। সিপিএম যেমন অভিযোগ করে, খয়েরুল্লাচকে দলের এক কার্যালয়ের দেওয়ালে তৃণমূল দেওয়াল লিখন করেছে।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুরের সর্বত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে নির্বাচন করার দাবি জানায় বিরোধীরা। শাসক দলের জেলা নেতৃত্বও বুঝিয়ে দেন, বাহিনী রেখে নির্বাচনে তাঁদের আপত্তি নেই। বৈঠক শেষে সিপিএম নেতা অশোক ঘোষ বলেন, “সন্ত্রাস করে, অত্যাচার করে, গণতন্ত্র ধ্বংস করে বেশি দিন শাসন করা যায় না। এটা তৃণমূল বেশ বুঝতে পারছে!” তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি শ্যামপদ পাত্রের কথায়, “আমরা সব সময়ই সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। দলের কর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে, কেউ যেন কোনও প্ররোচনায় পা না দেয়।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement