Israel-Iran Conflict

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে ইজ়রায়েলে আটকে রয়েছেন মেদিনীপুরের অনিরুদ্ধ, দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

অনিরুদ্ধ তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে তেল আভিভে থাকেন অনিরুদ্ধ। তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানসার বায়োফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। অন‍্য দিকে, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ তাঁর বাবা-মা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৫ ০২:০৩
Share:

অনিরুদ্ধ বেরা। —নিজস্ব চিত্র।

ইজ়রায়েলে আটকে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির যুবক অনিরুদ্ধ বেরা। বছর সাতাশের অনিরুদ্ধ ইজ়রায়েলের বিখ্যাত তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন। সাম্প্রতিক ইজ়রায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের তেল আভিভ শহরের একটি আবাসনে দুশ্চিন্তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন শালবনির ভাউদি গ্রামের এই মেধাবী ছাত্র। বাড়িতেও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন তাঁর বাবা-মা।

Advertisement

অনিরুদ্ধ তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে তেল আভিভে থাকেন অনিরুদ্ধ। তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানসার বায়োফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। অন‍্য দিকে, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে তাঁর বাবা-মা।

এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে ইজ়রায়েলে দিন কাটছে অনিরুদ্ধের? বুধবার রাতে তিনি আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন, “আমরা সেন্ট্রাল তেল আভিভের একটি আবাসনে ভাড়া থাকি। গত শুক্রবার থেকে কার্ফু জারি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। দোকানপাট সকালের দিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে খোলা হচ্ছে। সারা দিনে অন্তত তিন-চার বার সাইরেন বাজছে। এমন পরিস্থিতিতে তো রান্না করে খাওয়া সম্ভব নয়, তাই বিভিন্ন শুকনো খাবার মজুত করে রেখেছি। তাই দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে বুধবার রাতের উপর।”

Advertisement

উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে অনিরুদ্ধ ভর্তি হন ভুবনেশ্বরের জাতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ— এনআইএসইআর)। জীবন বিজ্ঞানের উপর পাঁচ বছরের ইন্টিগ্রেটেড কোর্স করেন অনিরুদ্ধ। তার পর তিনি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে গবেষণার জন্য পাড়ি দেন ইজ়রায়েলে। সেখানকার বিখ্যাত তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানসার বায়োফিজিক্স-এর উপর গবেষণা করেছেন অনিরুদ্ধ। গবেষণা শেষ হতে আরও দু’বছর। এ দিকে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় বাবা-মা। অনিরুদ্ধের বাবা অসীম বেরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বুধবার রাতে তিনি বলেন, “দুশ্চিন্তা তো আছেই। কিন্তু, এই পরিস্থিতিতে কিছু করারও তো নেই। যত ক্ষণ না ভারত সরকার ওদের উদ্ধার করে নিয়ে আসছে তত ক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।” শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ বলেন, “আমরাও চাইছি অনিরুদ্ধ সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে দ্রুত দেশে ফিরে আসুক। অসীমবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।” শাসকদলের রাজ্যের যুবনেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহ বলেন, “অনিরুদ্ধের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement