বনশ্রীর প্রোফাইল পিকচার।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সভায় করেছেন দলবদল। তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপি’তে। সপ্তাহ দু’য়েকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে তার পরে। কিন্তু উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রী মাইতি এখনও রয়ে গিয়েছেন ‘তৃণমূলে’ই! অন্তত সমাজ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পেজের ছবি সে কথাই বলছে। যে ছবিতে বিধায়ক বিজেপি’র বিরোধিতাও করছেন। আর এ নিয়ে বিরোধী এবং নেটজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে কটাক্ষ-যুদ্ধ।
বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে প্রায় সব নেতা-নেত্রীরই বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে পেজ, অ্যাকাউন্ট, হ্যান্ডল রয়েছে। বিজেপি’ যোগ দেওয়ার পরে শুভেন্দু অধিকারীও টুইটারে হ্যান্ডল বানিয়েছেন। সামাজ মাধ্যমের ওই সব প্ল্যাটফর্মগুলিতে নেতা-নেত্রীরা দলের বা নিজেদের প্রচারমূলক কাজের কথা-ছবি পোস্ট করেন। বর্তমানে বিজেপি’ নেত্রী বনশ্রীরও টুইটার হ্যান্ডল এবং ফেসবুকে পেজ রয়েছে। বিজেপি’তে যোগ দেওয়ার পরে টুইটার থেকে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের যাবতীয় কাজকর্মের প্রচার সংক্রান্ত টুইট মুছে ফেলেছেন উত্তর কাঁথির বিধায়ক। কিন্তু তাঁর ফেসবুক পেজে এখনও থেকে গিয়েছে পুরনো দলের প্রচারের পোস্ট।
বনশ্রীর ফেসবুক পেজে তাঁর যে ‘প্রোফাইল পিকচার’ রয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের উত্তরীয় গলায় করজোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। ছবির নীচে লেখা রয়েছে, ‘মার্কড সেফ ফ্রম বিজেপি’ (বিজেপি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত চিহ্নিত করুন)। বনশ্রী বিজেপি’তো যোগ দিয়েছেন গত ১৯ ডিসেম্বর। তার কয়েকদিন আগেই ১৫ ডিসেম্বর নিজের টুইটারে রাজ্য সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি ‘দুয়ারে সরকার’র দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রচার করেছিলেন। ফেসবুক পেজটিও তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও প্রশংসা সংক্রান্ত পোস্টে ভর্তি রয়েছে।
এ নিয়ে কটাক্ষ করেছে তাঁর পুরনো দলের এক সময়ের সহকর্মীরা। এ প্রসঙ্গে দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তরুণ জানা বলেন, ‘‘বিধায়কের শরীরটা বিজেপিতে গিয়েছে। তবে তাঁর মন তো পড়ে রয়েছে এখনও তৃণমূলে।’’ তবে উত্তর কাঁথির বিধায়ক বনশ্রীর দাবি, ‘‘আমার ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্ট যিনি নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁকে সবকিছু ঠিক করে নিতে বলেছি। তার পরেও যদি ওই অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে তা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পুনরায় নির্দেশ দিচ্ছি।’’
উল্লেখ্য, এক সময়ের বিরোধীদের করা কটাক্ষ বা আক্রমণাত্মক পোস্ট মুছে দেওয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই ইউটিউব থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নারদ স্টিং অপারেশনের ভিডিয়ো মুছে ফেলা হয়েছিল। তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে হইচই কম হয়নি।