বিপ্লবের বাড়িতে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করছেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মাইতি। নিজস্ব চিত্র।
প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে সদ্য। বিকেলে। কয়েক ঘণ্টার পরেই রাতে বিদায়ী বিধায়কের বাড়ির কড়া নেড়েছেন দলের নতুন প্রার্থী। এসেছেন আশীর্বাদ নিতে। তার আগেই অবশ্য বিধায়কের বাড়িতে এসে হাঁটু মুড়ে প্রাণম সেরে ফেলেছেন বিরোধী দলের প্রার্থীও! মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবং রাতে পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর বাড়ি যেন হয়ে উঠেছিল ‘আশীর্বাদের দরবার’।
রাজ্যে ২৩ এপ্রিল বিধানসভার নির্বাচন শুরু। নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে। সোমবার আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। আর মঙ্গলবার সব আসনে প্রার্থীদের নাম জানিয়েছে তৃণমূল। গেরুয়া শিবিরের তরফে পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী সুব্রত মাইতিকে। আর তৃণমূল এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক বিপ্লবকে আর প্রার্থী করেনি এ বার। তার বদলে প্রার্থী করা হয়েছে অসীম মাজিকে।
সত্তোরোর্ধ্ব বিপ্লব যে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী হতে পারবেন না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল গত কয়েকদিন ধরে। কারণ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের প্রার্থী করার বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, শেষ মুহূর্তে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও বিপ্লবকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল বলে খবর। মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পরে দেখা যায়, তাতে নাম নেই বিপ্লবের।
তবে রাজনীতির আঙিনায় বিপ্লব পোড় খাওয়া নেতা। ১৯৯১ সাল থেকে কখনও কংগ্রেসের বিধায়ক পদ প্রার্থী, আবার কখনও তৃণমূলের প্রতীকে টিকিট পেয়েছেন। বিধায়ক হয়েছেন। মন্ত্রিসভার দায়িত্বও সামলেছেন। তাই পাঁশকুড়া পূর্ব (কোলাঘাট) এলাকায় বিপ্লবের সমাদর রয়েছে। মঙ্গলবার ভর সন্ধ্যায় তাই তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী সুব্রত। তিনি বিপ্লবের পূর্ব পরিচিত। একই পাড়ার বাসিন্দা। ঘরে ঢুকেই সুব্রত বিপ্লবের সামনে হাঁটু মুড়ে বসে প্রণাম করেন।
বিরোধী দলের প্রার্থীর সঙ্গে সৌজন্য বজায় রাখেন বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘‘আমার দল হারবে আর তুমি জয়ী হবে— এটা তো আমি বলতে পারি না।’’ বিজেপি প্রার্থী প্রত্যুত্তরে জানান, তাঁকে যেন সন্তান হিসাবে আশীর্বাদ করেন বিপ্লব। বিপ্লব বলেন, ‘‘তুমি লড়াই করতে নেমেছ, ভাল করে লড়ো।’’ এ ব্যাপারে বুধবার সুব্রত বলেন, ‘‘ওঁকে ছোট থেকে জেঠু বলি। একই পাড়ায় বাস। বাবার সমতুল্য ওঁর কাছে তাই আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলাম।’’
এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী অসীম এলাকায় দলের ব্লক সভাপতি। টিকিট পেয়ে ওই রাতেই তিনিও বিপ্লবের বাড়িতে পৌঁছে যান। সঙ্গে ছিলেন দলের জেলা (তমলুক) চেয়ারপার্সন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়। অসীমকে আশীর্বাদ করে বিপ্লব বলে, ‘‘ভাল হয়েছে। তোমায় সহযোগিতা করব।’’ অসীম এ দিন বলেন, ‘‘উনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তাই ওঁর কাছে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলাম।’’
শাসক-বিরোধী দলের প্রার্থীদের তাঁর বাড়িতে হাজিরা নিয়ে বিপ্লব এ দিন বলেন, ‘‘দু’জনেই আমার পরিচিত। একজন দীর্ঘদিন ধরে আমার সঙ্গে দল করেছে। আর সুব্রতর বাবা আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। ওঁকে লড়াই করার পরামর্শ দিয়েছি। আসলে দীর্ঘদিনের বিধায়ক থাকায় আমাকে সকলেই নিরপেক্ষ মনে করেন। তাই শাসক, বিরোধী— সকলেই আমাকে ভালবেসে বাড়িতে এসেছেন।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে