—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আগামিকাল, শনিবার নতুন সরকারের শপথ। তার আগেই ঘাটাল মহকুমা জুড়ে নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়ন বজায় রাখতে পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ গুলিকে স্বচ্ছ ভাবে দায়িত্ব পালনের বার্তা দিল বিজেপি। দুর্নীতি-সহ পুরনো কার্যকলাপ ভুলে নিরপেক্ষ এবং এলাকার বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে যাতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়, সেই কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরসভা এবং পঞ্চায়েত স্তরে স্থানীয় বিধায়কদের তরফে তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি করে কমিটি গড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে খবর। ওই কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড গুলি যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাবে।
ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা এবং খড়ার পুরসভার চেয়ারম্যান সন্ন্যাসী দোলই মানলেন, “বিজেপি বিধায়ক এসেছিলেন পুরসভায়। পাঁচ জনের তালিকা পাঠিয়েছেন।কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।” চন্দ্রকোনার তৃণমূল প্রার্থী তথা চন্দ্রকোনা ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সূর্য দোলই বলেন, “চন্দ্রকোনা এলাকাতেও পঞ্চায়েত ও পুরসভায় কমিটি তৈরির কথা জানানো হয়েছে।”
পদ্ম শিবিরের ব্যাখ্যা, আমজনতা অনেক আশা নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। তাই এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব এ বার তাদের। পুরসভায় ও পঞ্চায়েতে বিজেপি এখন ক্ষমতায় নেই। তাই উন্নয়নে কোনও খামতি যাতে না থাকে, সেটা দেখার দায়িত্বও স্থানীয় বিধায়কদের।তাই একটি করে কমিটি গড়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিটির সঙ্গে সরকারের কোনও যোগসূত্র থাকবে না। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় বিধায়ক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাতে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত।
ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, “সবকা সাথ,সবকা বিকাশ এটাই বিজেপি সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। দুর্নীতি সব বন্ধ করতে হবে। মানুষের স্বার্থে সরকারি টাকা খরচ হবে। পঞ্চায়েত ও পুরসভায় আমরা ক্ষমতায় নেই। কিন্তু তা বলে তো উন্নয়ন বন্ধ থাকবে না।পুরসভায় ও পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে গিয়ে বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’’ শীতল যোগ করেন, “ পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে পাঁচ জনের করে একটি করে কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এটা দলের বার্তা নয়। স্থানীয় স্তরে কমিটি ও বোর্ড সমন্বয় রেখে কাজ করবে।” দাসপুরের বিধায়ক তপন দত্ত বলছিলেন, “আমরা কোথাও কোনও ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করব না। পঞ্চায়েত এলাকায় সাধারণ মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল পান, সেটা দেখা জরুরি। পক্ষপাতিত্ব কিম্বা দুর্নীতি বরদাস্ত নয়।” জেলা বিজেপি নেতা তথা চন্দ্রকোনা বিধানসভার আহ্বায়ক সুদীপ কুশারী বলেন, “চন্দ্রকোনাতেও বিধায়কের তরফে প্রতি পঞ্চায়েতে কোথাও তিন কোথাও চার জন কে নিয়ে একটি কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি এলাকার দাবি মতো পরিকল্পনা, প্রস্তাব জমা দেবে। সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট বোর্ড গুলি কাজ করবে।”
সোমবার ফল প্রকাশের পর পরই পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকা গুলিতে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিজেপির স্থানীয় কর্মী সমর্থকেরা পুরসভায় ও পঞ্চায়েত অফিসে যাতে ফাইলপত্র না সরানো হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি শুরু হয়েছিল নজরদারি। এই আবহে প্রতিনিধিরাও অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে খবর। এই আবহে ঘাটাল মহকুমা জুড়ে উন্নয়ন চালু রাখতে বিজেপির তরফ থেকে ওই পদক্ষেপ করা শুরু হয়েছে বলে খবর।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে