BJP

BJP: গেরুয়া প্রার্থীর খোঁজে ড্রপবক্স

দলীয় সূত্র অবশ্য মনে করাচ্ছে, গত বিধানসভা ভোটে, এমনকি গত লোকসভা ভোটেও এমনই উদ্যোগ হয়েছিল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২২ ০৬:৪০
Share:

মেদিনীপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে রাখা ড্রপবক্স। নিজস্ব চিত্র ।

এ যেন অনেকটা প্রতিভা খোঁজার ধাঁচে দলের প্রার্থী খোঁজা!

Advertisement

পুরভোটে দলের প্রার্থী খুঁজতে ড্রপবক্স বসাল জেলা বিজেপি। মেদিনীপুরে দলের জেলা কার্যালয়ে এই ড্রপবক্স বসানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। পোশাকি নাম, ‘অ্যাপ্লিকেশন বক্স’। দলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার মধ্যে দু’টি পুর-এলাকা রয়েছে— মেদিনীপুর এবং খড়্গপুর। এই দুই পুরসভাতেই নির্বাচন আসন্ন। বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস মিশ্র বলেন, ‘‘আমরা জেলা কার্যালয়ে একটি বক্স রেখেছি। দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য এই বক্সে নিজেদের আবেদনপত্র জমা করতে পারবেন ইচ্ছুকেরা।’’ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী হবেন। তাও ড্রপবক্স কেন? জেলা বিজেপি নেতৃত্বের যুক্তি, নেতা-কর্মীদের বাইরেও বিজেপির মতাদর্শে বিশ্বাসী কেউ প্রার্থী হতে চাইতে পারেন। তাঁদেরও আবেদনের সুযোগ থাকছে।

মেদিনীপুরে ২৫টি আর খড়্গপুরে ৩৫টি ওয়ার্ড। তুলনায় মেদিনীপুরে বিজেপি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল। গত বিধানসভা ভোটে খড়্গপুরে জিতেছেন বিজেপির হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মেদিনীপুরে জয়ী তৃণমূলের জুন মালিয়া। মেদিনীপুরে শেষ পুরভোট হয়েছে ২০১৩ সালে। সে বার জেলা সদরে বিজেপি একটি ওয়ার্ডেও জেতেনি। ২০১৯ সালের লোকসভায় অবশ্য ১৭টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল তারা। আর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে ৯টি ওয়ার্ডে। বিধানসভা ভোটের পরে শহরে বিজেপির সংগঠন আরও দুর্বল হয়েছে।

Advertisement

জেলায় পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির এই ব্যবস্থাপনা প্রথম। দলীয় সূত্র অবশ্য মনে করাচ্ছে, গত বিধানসভা ভোটে, এমনকি গত লোকসভা ভোটেও এমনই উদ্যোগ হয়েছিল। বিজেপি সূত্রে খবর, পুরভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির দিন পর্যন্ত ড্রপবক্স বসানো থাকবে। তারপর ড্রপবক্স খুলে আবেদনপত্র ঝাড়াই-বাছাই হয়ে জেলা থেকে যাবে প্রদেশে। সেখান থেকে চূড়ান্ত সিলমোহর নিয়ে আবার জেলায় ফিরবে। দলীয় সূত্রে খবর, বেশিরভাগ আসনেই প্রার্থীর নাম মোটামুটিভাবে উঠে এসেছে দলীয়স্তরের আলোচনায়। প্রার্থী বাছতে খুব একটা অসুবিধা হবে না বলেই দাবি জেলা বিজেপির। দলের এক জেলা নেতার কথায়, ‘‘আমাদের দল তৃণমূল বা কংগ্রেসের মতো পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। সকলেই যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজনীতির ময়দানে নামতে পারেন, সে দিকটা খেয়াল রেখেই ওই উদ্যোগ।’’

তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক প্রদ্যোত ঘোষের অবশ্য কটাক্ষ, ‘‘পুরভোটে প্রার্থী খুঁজে না পেয়েই শেষ পর্যন্ত ড্রপবক্স বসাতে হয়েছে বিজেপিকে।’’ সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কীর্তি দে বক্সীরও খোঁচা, ‘‘প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না ওরা। তাই এই ব্যবস্থা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement