প্রতীকী ছবি।
জেলা বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল হল শনিবার। পূর্ব মেদিনীপুরে গেরুয়া শিবিরের দুই সাংগঠনিক জেলাতেই বিজেপির নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের অন্দরের ব্যাখ্যা, দু’টি ক্ষেত্রেই বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্টেরা মাথায় জায়গা পেয়েছেন।
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি করা হয়েছে সুদাম পণ্ডিতকে। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য কমিটিতে ব্যাপক রদবদলের পরে জেলাস্তরের পরিবর্তনের ইঙ্গিত ছিল। এ দিন সেই রদবদল হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য স্তরে রদবদলে তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি নবারুণ নায়েককে দলের রাজ্য সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়েছে। এর পরেই নতুন জেলা সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
নতুন জেলা সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় আগে সিপিএমের নেতা ছিলেন। তমলুকের প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠের ঘনিষ্ঠও ছিলেন। ২০১৬ সালের শেষ দিকে লক্ষ্মণের সঙ্গেই তপন বিজেপিতে আসেন। প্রথমে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। পরে জেলা সহ-সভাপতি হন। এ বার তমলুক জেলা সভাপতি হয়েছেন মহিষাদলের বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক তপন। জেলা রাজনীতিতে তিনি দিলীপ- ঘনিষ্ঠ নেতাদের কাছের হিসাবেই পরিচিত। দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর এদিন তপন বলেন, ‘‘ময়নার বাকচা, নন্দীগ্রামের একাংশ, পশ্চিম পাঁশকুড়া এবং হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে আমাদের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। ওই এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেব।’’
অন্য দিকে, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদের দ্বায়িত্ব পাওয়া সুদাম পণ্ডিত দলের দীর্ঘ দিনের পুরনো কর্মী। তিনি দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। বিজেপি-র কাঁথি জেলা সভাপতি পদ থেকে অনুপ চক্রবর্তীকে সরিয়ে এ বার সুদামকে নতুন জেলা সভাপতি করা হয়েছে। এগরার সাতমাইল এলাকার বাসিন্দা সুদামও বিজেপির অন্দরে দিলীপ ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপের সংসদ এলাকার মধ্যে রয়েছে এগরা বিধানসভা। জেলা বিজেপির রাজনীতিতে সুদাম তেমন পরিচিত না হলেও সাতমাইলে বিজেপির পুরনো জেলা অফিসে দেখা যেত দলের দীর্ঘদিনের এই নেতাকে।
এ বার বিধানসভা ভোটে কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় সাতটি বিধানসভার মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এর পরেও সাংগঠনিক রদবদলে কাঁথিতে জেলা সভাপতি বদল করেছেন রাজ্য নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হন। পরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতাও হয়েছেন। তবে নিজের জেলায় শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতারা দলের সাংগঠনিক পদে সে ভাবে ঠাঁই পাননি। আর এ নিয়ে দলের অন্দরে চর্চাও
শুরু হয়েছে।