বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বায়োমেট্রিক। নিজস্ব চিত্র
করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্ক হলদিয়া বন্দর। তার প্রেক্ষিতে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত বায়োমেট্রিক হাজিরা বাতিল করা হল।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলের পর থেকেই আধার ভিত্তিক স্থায়ীকর্মীদের জন্য নির্ধারিত বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হলদিয়া বন্দরের প্রশাসনিক ম্যানেজার অমল দত্ত জানান, দিল্লির নির্দেশেই এই ধরনের হাজিরা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাতিল করা হল। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত হাজিরা খাতাতেই সই করবেন বন্দরের কর্মীরা। বন্দর সূত্রে খবর, আগাম সতর্কতা হিসেবে হলদিয়া বন্দরে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি রাখা হয়েছে। সেই দলের প্যারা মেডিক্যাল সদস্যরা পোশাকবিধি মেনেই বিভিন্ন জাহাজে উঠবেন। বন্দরে জাহাজ নোঙর করার আগেই সাগরে পৌঁছে যাবেন মেডিক্যাল দলের সদস্যরা। ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরের একটি জাহাজের নাবিকাদের পরীক্ষা করা হয়েছে। তা ছাড়া নিয়মানুযায়ী জাহাজ হলদিয়া বন্দরে প্রবেশের আগেই জাহাজের ক্যাপ্টেনকে মুচলেকা দিয়ে জানাতে হচ্ছে সন্দেহজনক কোনও নাবিক জাহাজে আছেন কিনা। তা ছাড়া জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে নাবিকদের। অমলবাবু বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত আমরা ৫ হাজার ২৮৭ জনকে পরীক্ষা করেছি। একজনেরও কোনও ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। ১২০০ জন স্থায়ী কর্মী সহ বন্দরের সাইবার সেলের বিভিন্ন বায়োমেট্রিক হাজিরা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক কর্মী জানান, এদিন বিকেল থেকেই তাঁদের বায়োমেট্রিক হাজিরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামীদিনে বন্দরে যে সব কর্মীরা কাজ করবেন তাঁদের জন্যও নানা বিধিনিষেধ আনতে চলেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে হলদিয়া বন্দরের মধ্যে মূলত যাঁরা জাহাজের নাবিকদের সঙ্গে সরাসরি কজে যুক্ত তাঁদের ক্ষেত্রে এখনও তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার হলদিয়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছচাষ দেখতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র ‘সিফা’র ডিরেক্টর-সহ বিজ্ঞানীদের একটি দল। পরে তাঁরা বন্দরে বিদেশি জাহাজ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু করোনা নিয়ে সতর্কতায় তাঁদের সেই অনুমতি দেননি বন্দর কর্তৃপক্ষ।