Coronavirus

বাজারে মাস্ক বাড়ন্ত, বাড়তি দামে ছেঁকাও

কাঁথিতে সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মাস্ক বিক্রি হয়। অন্য সময় সেগুলির দাম ১০-২০ টাকা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২০ ০০:৫৮
Share:

—ফাইল চিত্র।

জেলায় এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলেনি। কিন্তু জেলার ওষুধ দোকানগুলিতে মাস্ক কেনার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে। এন-৯৫ তো রয়েছেই, সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে এক ধাক্কায়। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ীদের একাংশ মাস্ক বিক্রি করছেন দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে।

Advertisement

শুক্রবার ভগবানপুর-১ ব্লকের ইন্দোনেশিয়া ফেরত এক বাসিন্দাকে চিকিৎসার জন্য কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর পরেই করোনা নিয়ে চিন্তা বেড়েছে জেলাবাসীর। অনেকেই ছুটছেন ওষুধ দোকানে এন-৯৫ মাস্ক কিনতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে মাস্কের দাম শুনে তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ।

কাঁথিতে সুপার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মাস্ক বিক্রি হয়। অন্য সময় সেগুলির দাম ১০-২০ টাকা। কিন্তু গত এক-দু’দিনে তা বিক্রি হয়েছে কমপক্ষে ৫০ টাকায়। ওই এলাকার এক ওষুধ ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে মাস্কের চাহিদা একটু একটু করে বাড়ছিল। কিন্তু গত দু-এক দিনে গ্রাহকেরা শুধু মাস্ক কিনতেই আসছেন। চাহিদামত জোগান না থাকায় শুক্রবার সকাল থেকেই সকলকে অন্য দোকানে পাঠাচ্ছি।’’ কাঁথি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার কর্মী বিশ্বজিৎ দাস মাস্ক পাননি। তিনি বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাতে কমপক্ষে ১০টি দোকান ঘুরেছি। কিন্তু এন-৯৫ মাস্ক পাওয়া যায়নি। প্রায় আধঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর একটি ওষুধ দোকান থেকে দু’পর্দার একটি মাস্ক কিনেছি।’’

Advertisement

করোনা-মাস্ক

• এন-৯৫: এই ধরনের মাস্ক বিভিন্ন ফ্লু-এর ভাইরাস ঠেকাতে সক্ষম। মাস্কে ছিদ্রের সংখ্যা কম। ওই ছিদ্র দিয়ে ২.৫ মাইক্রনের ধূলিকণা বা ভাইরাস ঢুকতে পারে না
• বাজারে দাম: অন্য সময় দাম ১৫০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

Advertisement

একই অবস্থা হলদিয়াতেও। সেখানে এন-৯৫ মাস্ক মিললেও তার দাম আগুন। আগে এই মাস্কের দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা। পকেট শ’পাঁচেক টাকা নিয়ে নিজের ও পরিবারের চার সদস্যের জন্য মাস্ক কিনতে গিয়েছিলেন দুর্গাচকের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ লাইয়া। বেশ কয়েকটি ওষুধ দোকান ঘুরে অবশেষে তিনি এন-৭৫ মাস্ক পান। তবে তার দাম ৫০০ টাকা। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘‘এ রকম চলতে থাকলে মধ্যবিত্তের বাঁচার উপায় নেই। একটা মাস্ক যদি এত টাকা দাম হয় তাহলেপরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য কী করে কিনব!’’

সকলেরই অভিযোগ মাস্ক নিয়ে কালোবাজারি শুরু হয়েছে। এ নিয়ে হলদিয়ার এক ওষুধ ব্যবসায়ী শ্যামল মাইতি বলেন, ‘‘অর্ডার দিলেও জিনিস পাচ্ছি না। বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।’’ করোনার জেরে মাস্কের চাহিদা বাড়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ‘বেঙ্গল ড্রাগিস্ট অ্যান্ড কেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

সংগঠনের কাঁথি শাখার সদস্য ও প্রাক্তন কাউন্সিলার জগদীশ দিন্দা বলেন, ‘‘ড্রাগ বিভাগ থেকে বারবার সাংগঠনিকভাবে ব্যবসায়ীদের মাস্কের কালোবাজারি নিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা মাস্ক ব্যবহারের জন্য সকলকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই আমরা ওষুধ ব্যবসায়ীদের বেশি করে মাস্ক মজুত করার পরামর্শ দিচ্ছি।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement