Coronavirus

আইসোলেশনেও ফাঁক!

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, কোথাও ‘পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট’ (পিপিই) নেই, কোথাও ভেন্টিলেটর নেই।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০ ০৮:২০
Share:

আয়োজন: খড়্গপুর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড। নিজস্ব চিত্র

করোনা মোকাবিলায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি হাসপাতালেও আইসোলেশন ওয়ার্ড, কোয়রান্টিন ওয়ার্ড হচ্ছে। অথচ, ওই ওয়ার্ডগুলিতে ন্যূনতম পরিকাঠামোই নেই।

Advertisement

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, কোথাও ‘পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট’ (পিপিই) নেই, কোথাও ভেন্টিলেটর নেই। অথচ ওয়ার্ডগুলিতে এ সব থাকা আবশ্যিক। ফলে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশও আশঙ্কায় আছেন। ন্যূনতম পরিকাঠামোগুলি রাখার দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। জেলার এক সুপার স্পেশ্যালিটির সুপার মানছেন, ‘‘আমাদের হাসপাতালে করোনার জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু হচ্ছে। কিন্তু এখনও পিপিই পাইনি। চেয়েছি। দেখি কবে আসে!’’ সমস্যা মেনে পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘‘ওয়ার্ডগুলিতে পরিকাঠামোর কিছু অভাব রয়েছে। একে একে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পিপিই চাওয়া হয়েছে। রাজ্য থেকে এলেই দেওয়া হবে।’’ জেলার এক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপারের মন্তব্য, ‘‘আইসোলেশন ওয়ার্ডের জন্য আলাদা ভেন্টিলেটর চাই। কিন্তু আমাদের নেই। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে কয়েকটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। তেমন হলে সেখান থেকে এনে কাজ চালাতে হবে!’’

করোনা মোকাবিলায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁচটি হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে চালু হল ৪ শয্যার আইসোলেশন কেন্দ্র। হাসপাতালের নার্সিং স্কুলের একতলায় চলা আইসোলেশন ওয়ার্ডের পাশেই করোনার এই আইসোলেশন কেন্দ্র চালু হয়েছে। গড়া হয়েছে নার্স ও চিকিৎসকদের জন্য স্টোররুমও। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “করোনার উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীকেই এখানে রাখা হবে। সমস্ত পরিকাঠামো সাজিয়েই এই কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।” অবশ্য এ দিন কাউকে এই কেন্দ্র ভর্তি করা হয়নি। খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল ছাড়াও বাকি যে চারটি হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে সেগুলি হল, মেদিনীপুর মেডিক্যাল, ঘাটাল সুপার স্পেশ্যালিটি, ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটি এবং শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল।

Advertisement

জেলার মধ্যে একমাত্র ডেবরা সুপার স্পেশ্যালিটিতেই কোয়রান্টিন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। হাসপাতালের পুরনো ভবনে যে ৫০ শয্যা চালু হওয়ার কথা সেই কাজ এখনও থমকে আছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো ভবনে নতুন করে বেশ কয়েকটি শয্যা সাজিয়ে তোলা হলেও এখনও সম্পূর্ণভাবে সাজিয়ে তোলা যায়নি এই কোয়রান্টিন কেন্দ্র। সমস্যা দেখা দিয়েছে পুরনো এই ভবনের জলের ব্যবস্থা নিয়ে। তাছাড়া মেলেনি সুরক্ষার সরঞ্জাম। আসেনি ভেন্টিলেটর, গ্লাভস, মাস্ক, গাউনের মতো সরঞ্জাম। তাই এই কেন্দ্র চালু করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। ডেবরার ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আরিফ হাসান বলেন, “আমরা শয্যা সাজিয়ে প্রস্তুত রয়েছি। পরিকাঠামোর দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। তবে সুরক্ষার সরঞ্জাম হিসাবে মাস্ক, গাউনের মতো জিনিসপত্র এখনও না পাওয়ায় এই কেন্দ্রটি চালু করতে পারছি না।”

যে সব চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই ওয়ার্ডগুলিতে পরিষেবা দেবেন, তাঁদের জন্যই এন- ৯৫ মাস্ক, বিশেষ জ্যাকেট পিপিই প্রয়োজন। আর রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর জরুরি। সূত্রের খবর, যে সব চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই সব ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকছেন, তাঁদের নামের তালিকা হয়েছে। প্রয়োজনীয় উপকরণ দিতে জেলার স্বাস্থ্যভবনকে বলা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডগুলির জন্য ‘নোডাল অফিসার’ ঠিক করা হয়েছে। ওই হাসপাতালগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ তৈরি করা হচ্ছে। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্বীকারোক্তি, ‘‘এন- ৯৫ মাস্ক এবং পিপিই- র জোগান না থাকায় ওই হাসপাতালগুলিকে তা দেওয়া যাচ্ছে না। বিপুল চাহিদার তুলনায় এখন এ সব উপকরণের জোগান অপ্রতুল।’’ তাঁর আশ্বাস, ‘‘শীঘ্রই ওই ওয়ার্ডগুলিতে প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামো গড়ে উঠবে।’’ মেদিনীপুর মেডিক্যালের এক আধিকারিক বলছিলেন, ‘‘পর্যাপ্ত মাস্ক ও পিপিই- র জোগান না থাকায় ওই ওয়ার্ডে রোগীদের দেখার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ ভীত হয়ে পড়ছেন।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement