ফাঁকা মন্দির চত্বর। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র
করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতায় জেলার বিভিন্ন মন্দির-সহ যে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনেক মানুষ জমায়েত হন সেখানে ভিড় এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উদ্যোগী হল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।
তমলুক শহরের বর্গভীমা মন্দির-সহ জেলার বিভিন্ন মন্দিরের ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের বুধবার বৈঠক করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পদস্থ আধিকারিকের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি যে সব নির্দেশিকা রয়েছে তা আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তরফে বিভিন্ন মন্দির সহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে ভিড় এড়ানোর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছনতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। জেলা প্রশাসনের বৈঠকের পর বুধবার রাতেই তমলুক শহরের ঐতিহ্যবাহী বর্গভীমা মন্দির পরিচালন কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্দিরে ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি ও দর্শনার্থীদের ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
জেলার এই মন্দিরে তমলুক সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্তীরা আসেন। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের ভিড় হয়। করোনা নিয়ে সতর্কতার জন্য মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি বন্ধ থাকলেও মন্দিরে ভক্তরা পুজো দিতে পারবেন বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। বর্গভীমা মন্দির পরিচালন কমিটির সম্পাদক শিবাজী অধিকারী বলেন, ‘‘করোনা নিয়ে যে সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে বেশি মানুষের ভিড় এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের তরফে আমাদের জানানোর পরে আমরা মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ তিনি জানান, পুষ্পাঞ্জলির সময় মন্দিরের গর্ভগৃহে অনেক মানুষ জড়ো হন। সেইসঙ্গে অনেক ভক্ত মন্দিরে দুপুর ও রাতে ভোগ খাওয়ার জন্য আসেন। বেশি মানুষের ভিড় এড়াতেই পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মন্দির-সহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও ভিড় এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজনের ক্ষেত্রেও করোনা সতর্কতা নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ট্রেজারি) শেখর সেন বলেন, ‘‘জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি নির্দেশিকা পালন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিড় এড়াতে যা যা করার প্রয়োজন তা মেনে চলতে বলা হয়েছে। জেলার ধর্মীয় স্থান ও প্রতিষ্ঠান সহ সামাজিক সংগঠনগুলিকে এই নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে।’’
কাঁথি মহকুমার নাচিন্দায় নাচিন্দা মন্দিরেও প্রতিদিন প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। কিন্তু গত কয়েক করোনা সতর্কতার জেরে পুণ্যার্থীদের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে যে সব পুণ্যার্থী মন্দিরে আসছেন তাঁদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে আগামী রবিবার পরিচালন কমিটির সভা ডাকা হয়েছে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আপাতত মন্দির পরিচালনায় যুক্ত সকলেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। মন্দির চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়ে ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাচিন্দা মন্দির পরিচালন কমিটির সভাপতি অনিল মান্না।
মসজিদেও নমাজ পড়তে আসেন অনেকে। তাই করোনা সতর্কতার বিষয়টি বিভিন্ন মসজিদ কর্তৃপক্ষকে নজরে রাখতে বলা হয়েছে। কাঁথি মুসলিম শরাহ কমিটির সভাপতি শেখ আব্দুর রহমান মনি বলেন, ‘‘ করোনা সতর্কতার জন্য মসজিদে যত কম সংখ্যক মানুষ নমাজ পড়তে আসবেন ততই সকলের পক্ষে মঙ্গল। এব্যাপারে শীঘ্রই সম্প্রদায়ের সকলকে ডেকে আলোচনা করা হবে। আপাতত কয়েকটা দিন প্রত্যেকে বাড়িতে নমাজ পড়তে পারেন।