ঘেরাটোপ: অ্যাম্বুল্যান্স চালক আক্রান্ত হওয়ার পরে ঘাটাল শহরের করোনা সংক্রমিত এলাকায়। নিজস্ব চিত্র
অ্যাম্বুল্যান্স চালক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের অন্দরে। তবে প্রাথমিক ভাবে ওই চালকের মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার তাঁদের লালারস সংগ্রহ করা হয়েছিল। শনিবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শনিবার বিকেলেই আক্রান্ত যুবকের স্ত্রী-সহ বাকিদের মেদিনীপুর করোনা হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। রাতে ঘাটাল শহরের নিভৃতবাস কেন্দ্রে আনা হয় তাঁদের।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “অ্যাম্বুল্যান্স চালকের মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের রিপোর্ট নেগেটিভ হয়েছে। তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ঘাটালের দুই চিকিৎসক-সহ ন’জন স্বাস্থ্য কর্মী এবং তিন জন অ্যাম্বুল্যান্স চালকের লালারস করোনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, করোনা আক্রান্ত অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সংস্পর্শে এসেছেন এরকম আরও ৬ জনকে শনিবার ঘাটাল শহরের দু’টি কোয়ারান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে ওই চালকের সংস্পর্শে আসা ৩৬ জনকে কোয়ারান্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হল। এছাড়াও ওই ঘটনাতেই ৩০ জনকে গৃহ নজরবন্দি (হোম কোয়ারান্টিন) রাখা হয়েছে।
এর আগে দাসপুরে একই পরিবারের তিন জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফের ঘাটাল শহরে মাতৃযান চালকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে মহকুমা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। অনেক জায়গায় পাড়ার অলি-গলি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। করোনা আক্রান্ত মাতৃযান চালক যে ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেটি ‘সিল’ করেছে পুলিশ। ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য হোম ডেলিভারি চালু হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হচ্ছে সেখানে।
ঘাটালের গ্রামীণ ওয়ার্ড থেকে শহরে আসায় কড়াকড়ি করা হয়েছে। মূল রাস্তায় নাকা তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বোঝাই ছাড়া কোনও গাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ঘাটাল লাগোয়া ক্ষীরপাই পুর এলাকাতেও বেশ কয়েকটি জায়গা বাঁশ-কাঠ দিয়ে ঘিরেছেন স্থানীয়রা।
এরমধ্যেই শনিবার ঘাটাল শহরে আনাজ বাজার ও মুদিখানা দোকানগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভিড় হয়েছিল। পরিস্থিতি সামলাতে সকাল ১০টার মধ্যে আনাজ বাজারগুলি ফাঁকা করে দেয় পুলিশ। ঘাটাল শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিস, বাজারে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে পুরসভা। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “গোটা ঘাটাল শহর জুড়ে তল্লাশি চলছে। ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তিদের চিহ্নিত করে কোয়ারান্টিন করা হচ্ছে।’’