প্রতীকী ছবি।
ফের মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে মৃত্যু। এ বার এক যুবক। এই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে।
মৃত যুবকের নাম তাপস পড়িয়া। হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, বছর বত্রিশের তাপস ঘাটালের হাট সরবেড়িয়ার এক গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই যুবকের দেহ নিতে পারেননি তাঁর পরিজনেরা। হাসপাতাল থেকে পরিজনেদের জানানো হয়েছে, করোনা পরীক্ষা করার জন্য তাপসের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য নমুনা মেদিনীপুর মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসেনি। রিপোর্ট এলে সব দিক দেখে দেহ ছাড়া হবে।
ঘাটালের ওই যুবকের মৃত্যু নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা। তবে হাসপাতালের এক আধিকারিক মানছেন, ‘‘করোনা পরীক্ষার জন্য ওই যুবকের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’ যুবকের মৃত্যু হল কেন? ওই আধিকারিকের জবাব, ‘‘ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল।’’
হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, তাপসের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা ছিল। তাঁর দাঁতের যন্ত্রণাও ছিল। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় অবহেলার নালিশও উঠেছে। তাপসের ভাই মানস পড়িয়া বলেন, ‘‘হাসপাতালে দাদার ঠিকমতো চিকিৎসাই হয়নি। ভর্তির পরে দাদা কেমন রয়েছে তা আমাদের দেখতেও দেওয়া হয়নি। ঠিকমতো চিকিৎসা হলে দাদার মৃত্যু হত না।’’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই নালিশ মানেননি। গত মঙ্গলবার ঘাটাল মহকুমা হাসপাতাল ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল ঘুরে মেদিনীপুরের করোনা হাসপাতালে (লেভেল- ২) ঠাঁই হয়েছিল তাপসের। মানস বলছিলেন, ‘‘ওই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দাদাকে নিয়ে শুধু এ হাসপাতাল, ও হাসপাতালই ঘুরেছি। এ ভাবে ঘুরলে তো রোগী আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’’ মেডিক্যালের এক সূত্র জানাচ্ছে, শারীরিক পরিস্থিতি দেখেই ওই রোগীকে করোনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে খবর, তাপস দিল্লিতে সোনার কাজ করতেন। লকডাউনের আগেই ফিরেছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই রোগীর শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল। যদিও পরিজনেদের দাবি, ওই যুবকের বড় ধরনের কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। মানসের অনুযো, ‘‘মেদিনীপুরের এই হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। এর আগেও ঘাটালের একজন এখানে ভর্তি ছিলেন। আমি ওই রোগীর পরিজনেদের কাছেও এটা শুনেছিলাম।’’ হাসপাতালের এক আধিকারিক অবশ্য বলছেন, ‘‘যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে অভিযোগ ঠিক নয়।’’