coronavirus

কলকাতা থেকে ফিরে করোনা

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই যুবক মহিষাদল ব্লকের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। মুরগি বিক্রির গাড়িতে চেপে ওই যুবক গত ১২ মে গ্রামের বাড়িতে আসেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২০ ০১:৩৮
Share:

বিধিভঙ্গ: লালারসের নমুনা সংগ্রহের সামনে লাইনে শিকেয় দূরত্ব বিধি। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র

করোনা আক্রান্ত এলাকার সংখ্যা বাড়ছে পূর্ব মেদিনীপুরে। এগরা, হলদিয়া, তমলুক, পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাটের পর এবার মহিষাদলে খোঁজ মিলেছে করোনা আক্রান্তের। আবার, কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাঁথির এক ব্যক্তিরও করোনা ধরা পড়েছে। ফলে আক্রান্তের তালিকায় নাম জুড়েছে কাঁথির।

Advertisement

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই যুবক মহিষাদল ব্লকের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। মুরগি বিক্রির গাড়িতে চেপে ওই যুবক গত ১২ মে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ‘রেড জ়োন’ কলকাতা থেকে তাঁর বাড়িতে আসার খবর জানতে পারেন আশেপাশের বাসিন্দারা। মূলত তাঁদের চাপেই শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় ওই যুবকের। ১৩ মে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষে তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে রিপোর্ট আসার পরে জানা যায়, ওই যুবক করোনা পজ়িটিভ।

ওই যুবককে পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে বড়মা করোনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আর তাঁর পরিবারের ১৬ জন সদস্যদের চণ্ডীপুরের করোনা হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘মহিষাদল ব্লকের এক যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। ওই যুবকের পরিবারের ১৬ সদস্যকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’’
শর্তসাপেক্ষে সোমবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছিল কাঁথি শহর। তার এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই এই শহরের ভাড়া বাড়িতে থাকা এক ব্যক্তির শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। কাঁথি হাসপাতাল সূত্রের খবর, কাঁথি-১ ব্লকের একটি গ্রামের ওই বাসিন্দা শহরের আঠিলাগড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পেশায় পুরোহিত ওই প্রৌঢ় গত ৫ জ্বরে আক্রান্ত হন। ৯ মে তিনি শহরের এক চিকিৎসকের চেম্বারে যান। ১১ মে জ্বর নিয়ে ওই ব্যক্তি কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি স্ট্রোক আক্রান্ত অনুমান করে কয়েক ঘণ্টা থাকার পরে তাঁকে রেফার করে দেওয়া হয়। ওই পুরোহিতকে হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে এবং পরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি করোনা আক্রান্ত।

Advertisement

নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায় বলেন, ‘‘শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে কাঁথি শহরের ওই বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁর সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবরের চেষ্টা চলছে।’’ আক্রান্ত ওই ব্যক্তির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে অবশ্য এদিনই যান ব্লক প্রশাসনের লোকেরা। তবে পরিবারের বাকি লোকেদের কোনও উপসর্গ না থাকায় আপাতত তাঁদের গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল এগরায়। পরে তমলুক, হলদিয়া যোগ হয় তাতে। লকডাউনের শুরুর দিকে ওই তিন জায়গাতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আটকে ছিল। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে, তত পাঁশকুড়া, কোলাঘাট, মহিষাদল, কাঁথির মতো অন্য এলাকাতেও আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। ফলে চিন্তিত জেলাবাসী। যদিও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, জেলায় নতুন কোনও এলাকায় সংক্রমণ ছড়ায়নি। মহিষাদলের আক্রান্তও জেলায় নন, কলকাতায় সংক্রমিত হয়েছিলেন। নিতাই বলেন, ‘‘মহিষাদলের যুবক কলকাতাতেই সংক্রমিত হয়েছেন বলে আমাদের ধারণা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement