Coronavirus

করোনা আক্রান্তদের পাশে করোনা জয়ীরা

ক্লাব পিছু কতজন সদস্য থাকবেন তা অবশ্য এখনও ঠিক হয়নি। তবে মোটামুটি ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সদস্যদের ৬০-৭০ শতাংশ সদস্য হবেন করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২০ ০২:১৪
Share:

—ফাইল চিত্র।

করোনা জয়ীদের নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে গড়ে উঠছে একটি ক্লাব। পোশাকি নাম ‘কোভিড- ১৯ ওয়ারিয়র্স ক্লাব’। রাজ্যের এ সংক্রান্ত নির্দেশ পৌঁছেছে জেলায়। নির্দেশ পেয়ে ক্লাব গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলার স্বাস্থ্যভবন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘রাজ্যের নির্দেশ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নির্দেশে এ ব্যাপারে জেলার তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক অনন্যা মজুমদারের সঙ্গে একপ্রস্থ কথাও বলেছেন জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী। শুরুতে জেলাস্তরে ক্লাব গঠন করা হবে। পরে ব্লক এবং পুরসভা স্তরেও ক্লাব গঠন করা হতে পারে। বিশেষ করে যে ব্লক এবং পুরসভা এলাকা সংক্রমণ- প্রবণ বলে পরিচিত। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ করবেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।

ক্লাব পিছু কতজন সদস্য থাকবেন তা অবশ্য এখনও ঠিক হয়নি। তবে মোটামুটি ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সদস্যদের ৬০-৭০ শতাংশ সদস্য হবেন করোনা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা। ক্লাবে করোনা জয়ীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিশিষ্টজন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনও প্রশাসনিক আধিকারিক। প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলা স্তরে এমন ক্লাব গঠনের ভাবনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্যভবনের এক সূত্রে খবর, এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দিয়ে এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার করানো হবে। করোনা রোগীদের কাউন্সেলিং করানো হবে। বোঝানো হবে, করোনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই রোগে আক্রান্তদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে ওঠেন। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘করোনা জয়ীরাই করোনা আক্রান্তদের কাউন্সেলিং করবেন। নিশ্চিতভাবেই এর প্রভাব পড়বে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, করোনা জয়ীদের মধ্যে ইচ্ছুকদেরই এই ক্লাবের সদস্য করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ইতিমধ্যে জেলার অনেক করোনা রোগী ভাল হয়েছেন। তাঁদেরকে অনুরোধ করা হবে করোনার বিরুদ্ধে চলা এই লড়াইয়ে এগিয়ে আসার।’’

করোনা আক্রান্তদের প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবেন ওই ক্লাবের সদস্যরা। এখনও করোনা রোগীদের অস্পৃশ্য করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাঁদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। জেলার এক স্বাস্থ্যকর্মীও মানছেন, ‘‘যাঁরা করোনাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বললে করোনা আক্রান্তরা নিশ্চিতভাবে অনেকটা আশ্বস্ত হবেন। আক্রান্তদের প্রতিবেশীরাও নিশ্চিতভাবে আশ্বস্ত হবেন।’’ ক্লাবের সদস্যদের ভাতা দেওয়া হবে। শীঘ্রই সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement