ডেঙ্গি সচেতনতায় নয়া উদ্যোগ

কামান ছেড়ে গানেই ভরসা স্বাস্থ্য দফতরের

ডেঙ্গি প্রতিরোধে অস্ত্র গান।ডেঙ্গি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর উপরই জোর দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এ জন্য গান তৈরি করা হয়েছে। গানের কথা ও সুর জেলার উপ- মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গীর।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০১৬ ০০:৩৯
Share:

ডেঙ্গি প্রতিরোধে অস্ত্র গান।

Advertisement

ডেঙ্গি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর উপরই জোর দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এ জন্য গান তৈরি করা হয়েছে। গানের কথা ও সুর জেলার উপ- মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গীর। সৌম্যবাবুই গানটি গেয়েছেন। ডেঙ্গি প্রতিরোধে কী করা উচিত, গানে সেই কথাই তুলে ধরা হয়েছে।

এলাকা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে গানের সুরে। বলা হয়েছে, ‘চারপাশে আগাছা হলে, কিংবা জল জমলে, তাড়াতাড়ি পরিস্কার করাও রে।’ ডেঙ্গির লক্ষ্মণ দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘জ্বর আসিলে পরে, রক্ত পরীক্ষা করে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে যাও রে।’ ডেঙ্গি প্রভাবিত এলাকার সচেতনতা শিবিরগুলোয় এই গান শোনানো হবে। সচেতনতার জন্য যে ট্যাবলো বেরোবে, সেখানেও এই গান চলবে।

Advertisement

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আশা, গানের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডেঙ্গি সম্পর্কে সচেতন করা যাবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পশ্চিম মেদিনীপুরে কিছু হয়নি। এখন সচেতনতা কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গান তৈরি করা হয়েছে। গানের মাধ্যমেও সচেতনতা
প্রচার চলবে।”

গানটি যিনি গেয়েছেন, সেই জেলার উপ- মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্করবাবু বলেন, “গানের কথাগুলো খুব সহজ। আশা করি, মানুষের মনে পৌঁছবে।” বুধবার থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা শিবির করা শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। গানের সিডি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সব ব্লকে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্রবাবু। চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২২। এরমধ্যে সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। সপ্তাহ খানেক আগে গড়বেতা- ৩ এর নবকোলায় অজানা জ্বরে দু’জন কিশোরীর মৃত্যু হয়। দুই কিশোরীর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। যাঁরা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়। শনিবারই প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পান জেলার স্বাস্থ্য- কর্তারা। কলকাতা থেকে ওই রিপোর্ট আসার পরই জেলায় হইচই শুরু হয়। ১৮ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। দেখা যায়, এরমধ্যে ১১ জনেরই ডেঙ্গির জীবানু মিলেছে। পরে পরে ওই এলাকার আরও কয়েকজন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

জেলার এক স্বাস্থ্য- কর্তার বক্তব্য, মশার উপদ্রব বাড়ছে। নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ার জন্যই এই সমস্যা। যত্রতত্র আবর্জনা জমছে। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই এক ছবি। বৃষ্টিতে তা ধুয়ে নর্দমায় যাচ্ছে। জমছে জলও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা কর্মসূচির উপরই জোর দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। দফতরের উদ্যোগে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। প্রচারে জানানো হচ্ছে, এই সময় কী কী করা উচিত আর কী কী করা উচিত নয়। মশারি টাঙিয়ে শোওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, “ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে, কী ভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ে, সাবধনতার জন্য কী কী করা প্রয়োজন প্রভৃতি মানুষকে জানানো হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখা হয়েছে।” জেলার এক স্বাস্থ্য- কর্তার কথায়, “মানুষ সচেতন না- হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।” গানে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? জানানো হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সাধারণত দুই থেকে পাঁচ দিনের জ্বর হয়। ডেঙ্গির মশা জলে জন্মায়। বংশবৃদ্ধি করে। শুধু রাতের বেলায় নয়, দিনের বেলায় শুয়োর সময়ও মশারি ব্যবহার করা উচিত।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement