প্রদীপের পাশেই অন্ধকার

খড়্গপুরের তৃণমূল পুরপ্রধান প্রদীপ সরকারের নিজের এই ওয়ার্ড ছাড়া অন্যত্র অবশ্য সেই আঁধারই।

Advertisement

দেবমাল্য বাগচী

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৬ ০১:০৬
Share:

আলোয় সেজেছে খড়্গপুরের পুরপ্রধানের ২০ নম্বর ওয়ার্ড (বাঁ দিকে)। আঁধার পথ ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দায় (ডান দিকে)। ছবি: রামপ্রসাদ সাউ।

খড়্গপুরের তৃণমূল পুরপ্রধান প্রদীপ সরকারের নিজের এই ওয়ার্ড ছাড়া অন্যত্র অবশ্য সেই আঁধারই।

Advertisement

খড়্গপুরের নিউ টাউনের ১ নম্বর ওয়ার্ড, ইন্দার ২ নম্বর ওয়ার্ড, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড, কুমোরপাড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ড, মালঞ্চর ১৪ নম্বর, তালবাগিচার ৩৩, ৩৪, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পথবাতি নেই। যেখানে আলো রয়েছে তাও টিমটিম করে জ্বলে। আর একবার পথবাতি খারাপ হলে সারানোর উদ্যোগ আর চোখে পড়ে না। যদিও পুরপ্রধান প্রদীপবাবুর বক্তব্য, ‘‘নিজের ওয়ার্ডকে সাজিয়ে তুলতে নীল-সাদা আলোর ব্যবস্থা করেছি। পুরসভার কেন্দ্রীয় অর্থ নয়, নিজের ওয়ার্ডের তহবিল থেকে খরচ করেই কাজটা করেছি। অন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের কাছে নিজের ওয়ার্ডকে মডেল করতে চাইছি।’’

আসলে শহরের সৌন্দর্যায়নে পুরসভার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই এমন বৈষম্য দেখা দিচ্ছে বলে শহরবাসী থেকে একাংশ কাউন্সিলরের অভিযোগ। ৩৫টি ওয়ার্ডের খড়্গপুর পুরসভায় ২৫টিতেই ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ, পুরসভায় বিরোধীরা দুর্বল হয়ে পড়ায় কাউন্সিলররা ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজের সমন্বয়ের অভাব দেখা দিচ্ছে। এতে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। যেমন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেলকর্মী কমল পাল বলেন, ‘‘আমাদের ওয়ার্ডে পথবাতির সাময়িক মেরামত ছাড়া কোনও নতুন কাজ হচ্ছে না। পাশের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছে আমাদের এখানে এমন হলে ভাল হত। অবশ্য যেখানে মশা মারতে সামান্য ব্লিচিং, তেল পর্যন্ত ছড়ানো হয় না, সেখানে এ সব আশা করা বৃথা।” ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমিত হালদারেরও বক্তব্য, ‘‘পুরপ্রধানের ওয়ার্ড দেখে ভাল লাগছে। আমাদের ওয়ার্ডেও এমন উদ্যোগ জরুরি।”

Advertisement

অন্য ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অবশ্য যুক্তি, নাগরিক পরিষেবার অন্য কাজ করতেই বরাদ্দ টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর রীতা শর্মা যেমন বললেন, ‘‘পুরপ্রধানের রেলের ওয়ার্ডের তুলনায় আমাদের পুর-ওয়ার্ডের উন্নয়নে খরচ অনেক বেশি। তাই ওঁদের পক্ষে এ সব কাজ করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের ওয়ার্ডে রাস্তা, নালার সংস্কারে টাকার সংস্থান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” রেলের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর অনুশ্রী বেহেরারও বক্তব্য, “আমার ওয়ার্ডে আলোকসজ্জার থেকেও জলের প্রয়োজন বেশি। আমি সেই কাজে নজর দিয়েছি।” প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল কাউন্সিলর রবিশঙ্কর পাণ্ডের বক্তব্য, “আলোকসজ্জার থেকেও রাস্তাঘাট, জল, নিকাশিতে আগে জোর দেওয়া উচিত। আমি স্থায়ী কাজে বিশ্বাসী।”

অবশ্য পুরপ্রধান বলছেন অন্য কথা। তাঁর যুক্তি, “মাত্র হাজার টাকাতেই পথবাতির খুঁটি এলইডি দিয়ে সাজানো যায়। ইচ্ছে থাকলে অন্য কাউন্সিলররাও এই কাজ করতে পারেন।” তাঁর মতে, আইআইটি উড়ালপুল আলো দিয়ে সাজিয়েছে পুরসভা। পরে ঝাপেটাপুর, মালঞ্চ, পুরাতনবাজারের মূল সড়কেও পথবাতির খুঁটি আলোয় সাজবে। তবে ওয়ার্ডের গলিপথ সাজাতে কাউন্সিলরদেরই উদ্যোগী হতে হবে।’’

যদিও রেলশহরের বাসিন্দারা চাইছেন, আলোকসজ্জার কাজ হোক কেন্দ্রীয় ভাবে। আঁধার ঘুচে সেজে উঠুক গোটা খড়্গপুর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement