(বাঁ দিকে) তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা। ফাইল চিত্র। (ডান দিকে) রবিবার মেদিনীপুর আদালতে সুজয়কে ঘিরে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত।
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে মেদিনীপুর আদালতে নিয়ে আসতে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বেশ কিছু লোকজন। রবিবার সকালে সুজয়কে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর আদালত চত্বরে। সিজেএম আদালতে তোলার আগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কোর্ট লকআপে। সেই সময় স্থানীয় মানুষদের একাংশ ডিম নিয়ে জড়ো হন আদালত চত্বরে। সুজয়কে দেখামাত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। ডিম ছুড়ে মারার জন্য প্রস্তুতও ছিলেন। তবে গাড়িতে করে আদালতের ভিতরে নিয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ পাননি বিক্ষুব্ধেরা।
আদালত চত্বরে হাজির হয়েছিলেন বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থকও। এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘আমরা চোরটাকে দেখতে এসেছিলাম। শুনলাম ডিম এনেছে জনতা।’’ ডিমের ক্যারেট হাতে নিয়ে এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘ওরা চুরি, জালিয়াতি করে মানুষকে ডিম খাইয়েছে এত দিন। তাই আজ ওদের কাঁচা ডিম দিতে এসেছি।’’ প্রসঙ্গত, তোলাবাজি, জালিয়াতি, জমি কেলেঙ্কারির মামলায় শনিবার রাতে সুজয়কে গ্রেফতার করে শালবনি থানার পুলিশ। ১৪ দিনের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘‘আইনের পথেই চলা হবে। কে কী অপকর্ম করেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’’ উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। কাকতালীয় ভাবে সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় সুজয়ের গ্রেফতারির খবর মেলে। অন্য দিকে, নারায়ণগড়ে তৃণমূলের অঞ্চল উপপ্রধান তরুণ পাহাড়িকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।