বন্ধ রয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের নদী ড্রেজ়িংয়ের কাজ। ছবি: কৌশিক সাঁতরা kousiksantra2025.10@gmail.com
সরকার বদল হয়েছে। এ বার কী হবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভবিষ্যৎ? চর্চা শুরু হয়েছে ঘাটাল জুড়ে। তাতে ইন্ধন জুগিয়েছে ঘটনাপ্রবাহ। পাম্প হাউসের কাজ আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ বার বন্ধ হয়ে গেল শিলাবতী সহ একাধিক খালের ‘ড্রেজিং’ অর্থাৎ পলি তোলার কাজও।
আশঙ্কার মাঝে রয়েছে আশার আলোও। বিজেপি নেতারা প্রথমে বলেছিলেন, কেন্দ্র একাই এই প্রকল্প রূপায়ণ করবে। যদিও কারও ভরসায় না থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেয় রাজ্যই। প্রথম দিকে কাজ চলছিল ভালই। পরে গতি শ্লথ হতে শুরু করে। এরই মধ্যে এসে পড়ে বিধানসভা ভোট। এ বার রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার। এতে মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের সুরাহা হতে পারে বলে আশায় বুক বাঁধছেন ঘাটালবাসীদের একাংশ। ঘাটালের জয়ী বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলছেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ তৃণমূল সরকার করতে পারবে না, ভোটের আগেই জানিয়েছিলাম।সেই সময়ই বিজেপি ক্ষমতায় এসে ওই প্রকল্প রুপায়ণ করার কথা জানানো হয়েছিল। বিজেপি কথা দিয়ে কথা রাখে।এবার ঘাটালবাসীর স্বপ্ন পূরণ হবে।’’
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান মূলত ষাট দশক আগের একটি পরিকল্পনা। নদী বেষ্টিত ঘাটাল এবং ঘাটাল লাগোয়ো এলাকা গুলিকে বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর বছর দুয়েক আগে প্রকল্প রুপায়ণের কথা ঘোষণা করেছিল বিদায়ী তৃণমূল সরকার। তার জন্য পাঁচশো কোটি টাকা বরাদ্দও করেছিল সরকার। তবে কাজ শুরুর পরই নানা ঘটনায় হোঁচট খায় প্রকল্পের কাজ। দিনের শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। পাম্প হাউস, নদী-খালের ড্রেজিং এর কাজও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু গত পুজোর পর থেকে ধীর গতিতে চলতে থাকে কাজ। টাকা বরাদ্দের পরও অর্থ দফতরের অনুমোদন না মেলায় প্রস্তাবিত একাধিক কাজ শুরুই হয়নি। পাম্প হাউসের কাজ শুরু হলেও জমি কেনা না হওয়ায় ভোটের মুখে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। এ বার ভোট মিটতেই বন্ধ হয়ে গেল শিলাবতী সহ ঘাটাল দাসপুরের একাধিক খাল-নদীর পলি তোলার কাজ।
টাকা বরাদ্দের পরেও প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রথম থেকেই তৃণমূল কোণঠাসা ছিল। তবে ঘাটালের সাংসদ দেবের মুখে বার বার প্রকল্পের কথা শোনা গিয়েছিল। তবে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই প্রকল্প নিয়ে সে ভাবে উৎসাহী দেখায়নি। ভোটের আগে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শিলান্যাস ঘাটালে না করে সিঙ্গুর থেকে কেন করা হল, তা নিয়েও উঠেছিল নানা প্রশ্ন। এ বার ভোটে দেব ছাড়া মাস্টার প্ল্যানের কথা মুখেও আনতে শোনা যায়নি তৃণমূল প্রার্থী সহ দলীয় কর্মীদের। ভোটের পর বহু প্রতীক্ষিত ড্রেজিং এর কাজও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি থমকে। এই পরিস্থিতিতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রুপায়ণ সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়েক মনে করিয়ে দিয়েছেন, “সামনেই বর্ষা। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে নদী ও খালের মাটি তোলা হয়নি। ফলে তার আগে নদী খাল গুলির উপর নজরদারি জরুরি। তা না হলে গোটা ঘাটাল, দাসপুর আবার ভাসবে।”
সেচ দফতরের ব্যাখ্যা, ড্রেজিংয়ের কাজে কোনও বাধা নেই। অনেক ঠিকাদার সংস্থাই কাজ বন্ধ রেখেছে। দাসপুরের একটি খালে ড্রেজিং চলছে। তা ছাড়া এখন নদী ও খালে জল জমে গিয়েছে। সবমিলিয়ে বন্ধ পলি তোলার কাজ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে