সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। নিজস্ব চিত্র
অতিরিক্ত পরিবহণ দফতরে অভিযান চালিয়ে দালালদের ঘাড় ধাক্কা দিলেন ঘাটালের মহকুমাশাসক অসীম পাল। এমনটা ফের হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে অফিস চত্বরে পোস্টার সাঁটানোর ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। তাতে স্পষ্ট লেখা, ‘সরকারি পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসাধারণের কাছে টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ।’
আরটিও অফিসে দালালরাজের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। ব্যতিক্রম নয় ঘাটালও। নতুন লাইসেন্স পেতে অথবা লাইসেন্সের পুনর্নবীকরণের আবেদন অনলাইনে করা গেলেও অফিসে দালালরাজ বন্ধ হয়নি। রীতিমতো চেয়ার-টেবিল পেতে চলত ঘুষ খাওয়া। যে কাজ নিয়ম মেনে করলে সময় লাগে, দালালদের হাতযশে তা হত নিমেষে, টাকার বিনিময়ে। এ নিয়ে বহু অভিযোগও হয়েছে। কিন্তু ঘুঘুর বাসায় ঢিল পড়েনি।
এ দিনের প্রশাসন সক্রিয় হওয়ায় লোকজন খুশি। ঘাটাল আরটিও অফিসে আসা একজনের কথায়, “লাইসেন্স করতে সরকারি ফি-র অতিরিক্ত আমার কাছে দেড় হাজার টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে চাইনি বলে আমার লাইসেন্সও হয়নি।” মহকুমাশাসক মানছেন, “এআরটিও অফিস নিয়ে নানা অভিযোগ আসছিল। সরকারি অফিসে এটা হতে দেওয়া যায় না। সেটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি।” পাশাপাশি দফতরের কয়েকজন কর্মীকে রদবদলও করেছেন তিনি। জেলা পরিবহণ আধিকারিক বিশ্বজিৎ মজুমদারের আবার ব্যাখ্যা বলেন, “গ্রাহক আর দালাল চিহ্নিত করা মুশকিলের। তবে নতুন করে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয় খেয়াল রাখা হবে।”
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
২০১৫ সালে ঘাটাল শহরে অতিরিক্ত পরিবহণ দফতরের অফিস চালু হয়। তার আগে ঘাটালবাসীকে ছুটতে হত মেদিনীপুর শহরে। ঘাটালের মহকুমাশাসকের দফতরেই এআরটিও দফতরের কাজকর্ম শুরু হয়। অভিযোগ, নতুন লাইসেন্স হোক কিংবা নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, দালালদের নিয়ন্ত্রণেই চলছিল অফিসটি। প্রকাশ্যেই চলছিল দুর্নীতি।
এখন অনলাইনেই ড্রাইভিং লাইসেন্স-সহ যাবতীয় কাজ ঘরে বসে করা যায়। তবে ‘লার্নার’ লাইসেন্স পেতে অফিসে এসে পরীক্ষা দিতে হয়। চূড়ান্ত লাইসেন্স পেতে হলে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা দিতে হয়। গোলমালের সূত্রপাত তখনই। বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, দালাল ধরলে বিনা বাধায় পরীক্ষায় পাশ করে ‘লার্নার’ লাইসেন্স হাতে চলে আসে। কিন্তু অন্যথা হলে টালবাহানার শেষ থাকে না।
মহকুমাশাসকের কড়া বার্তায় ছবিটা বদলায় কিনা, সেটাই এখন দেখার।