Cow Smuggling: থানাতেই যত্নআত্তি, গরু ধরে বিপাকে পুলিশ

কেউ গরুর সামনে জল এনে দিচ্ছেন। এমনকি, গোবর ও নোংরা সাফ করছেন।  পুলিশ কর্মীরা খাবারের জন্য খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসছেন খড়।

Advertisement

রঞ্জন পাল

শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২১ ০৬:১৩
Share:

বিনপুর থানাতেই ঠাঁই। নিজস্ব চিত্র।

কোনও পুলিশ অফিসার খাতায় গুনে গুনে মেলাচ্ছেন গরুর সংখ্যা। কেউ খুঁজে নিয়ে আসছেন খড়। সিভিক ভলান্টিয়াররা কাটছেন ঘাস। বিনপুর থানায় গেলে এখন এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে। একটা, দুটো নয়। থানা চত্বর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৮৯ গরু।

Advertisement

বুধবার গভীর রাতে ৫ নম্বর রাজ্য সড়কে টহলদারিতে ছিলেন বেলপাহাড়ির এসডিপিও উত্তম গরাই। পাঁচটি গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যানকে দেখে সন্দেহ তাঁর। পিকআপ ভ্যানের লোকজন গরু নিয়ে যাওয়ার কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। গরু পাচারের সন্দেহে সাতজনকে যেতে হয়েছে শ্রীঘরে। যদিও বৃহস্পতিবার ধৃত সাতজন জামিন পেয়েছেন। কিন্তু গরুগুলির কী হবে তা আগাম আঁচ করতে পারেননি পুলিশ কর্তারা। বেলপাহাড়ির এসডিপিও ভেবেছিলেন কোনও খোয়াড়ে গরুগুলিকে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন জেলায় কোন খোয়াড় বা গোশালা নেই। ফলে ৮৯ টি গরুর ঠিকানা এখন বিনপুর থানা। গরুর দেখভালের দিনের তিনটি সিফটে ১২ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে মোতায়ন করা হয়েছে। তাঁরাই থানার পিছনে ঘাস কেটে এনে গরুকে দিচ্ছেন। আবার কোন সময় বালিতে করে গরুর সামনে জল এনে দিচ্ছেন। এমনকি, গোবর ও নোংরা সাফ করছেন। পুলিশ কর্মীরা খাবারের জন্য খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসছেন খড়।

শুক্রবার থানায় ঢুকতেই দেখা গেল ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার খাতায় গুনে গুনে মেলাচ্ছেন গরুর সংখ্যা ঠিক রয়েছে কিনা। কারণ গরু এখন আদালতের হেফাজতে রয়েছে। তাই কোন গরুর কিছু হলে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে পুলিশ অফিসারদের। ৮৯টি গরুর মধ্যে সাদা রংয়ের গরু ৫১টি, খয়েরি রংয়ের গরু ২৭টি, কালো গরু ১১টি রয়েছে। এর মধ্যে চারটি গরু অসুস্থ রয়েছে। তারমধ্যে দু’টির অবস্থা খারাপ। এদিন শিলদার পশু চিকিৎসক পার্থসারথী মণ্ডল এসে গরুগুলির চিকিৎসা করেন। এমনকি পুলিশের সাহায্যে অসুস্থ গরুগুলিকে ইনজেকশন দেন। সিভিক ভলান্টিয়ার গৌতম দাস, ঈশ্বর মুর্মু ও দেবাশিস দাস সহ পুলিশ অফিসারা বুঝে উঠতে পারছেন না গরুগুলিকে এভাবে কতদিন দেখভাল করতে হবে।

Advertisement

অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁরা এই গরুগুলি বিক্রি করার জন্য কিনেছিল। এ দিন ঝাড়গ্রাম আদালতে চারজন ক্রেতা আইনজীবীর মারফত গরু ফেরতের জন্য আবেদন করেন। সরকারি আইনজীবী অনিল মণ্ডল বলেন, ‘‘এদিন আদালতে গরু ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন। বিচারক তদন্তকারী অফিসারকে এ ব্যাপারে রিপোর্ট তলব করেছেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে আদলত পরবর্তী নির্দেশ জারি করবে।’’

সমস্যার কথা মানছেন জেলার পুলিশ সুপারও। পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘প্রতিটি জেলায় সরকারি গোশালা থাকার কথা। এখানে না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। গরুকে খাওয়ানো থেকে দেখভাল সবকিছুই করতে হচ্ছে। ক্রেতারা গরুর মালিকানা দেখাতে পারলে গরু পাবেন। না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement