অন্য প্রতীকে ভোটের প্রচারে প্রার্থী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির। নিজস্ব চিত্র ।
পুরভোট কবে এখনও দিন ঠিক হয়নি। শাসক বা বিরোধী কোনও দলেরই প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বস্তুত তাদের পিছনে ফেলেই এগিয়ে রয়েছে নির্দল। প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে পুরভোটের প্রচারে নেমে পড়েছে তারা।
রাস্তার ধারে বাড়ির দেওয়াল, কোথাও ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নির্দল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার। এই প্রথম অধিকারী পরিবারের ছায়া থেকে বেরিয়ে কাঁথিতে পুরভোটে লড়তে চলেছে তৃণমূল। বিজেপি হলেও কার্যত কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জ’র সঙ্গেই পুরভোটে রাজ্যের শাসকদলের লড়াই। তবে সেই লড়াইয়ের আগে নির্দল ‘কাঁটা’ শাসক দলের অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কাঁথি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের নামে দেওয়াল ‘দখল’ করা হয়েছে। তবে অন্য ওয়ার্ডগুলিতে দলের প্রতীক আঁকা হলেও সেখানে সমস্ত দেওয়ালে ‘সাইট ফর টিএমসি’ লেখার পাশাপাশি ‘আর বি’ লেখা রয়েছে। সূত্রের খবর, আর বি হচ্ছেন রুবিনা খাতুন। কে এই রুবিনা! খোঁজ করতে গেলে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাবি, প্রাক্তন কাউন্সিলার আলেম আলি খানের স্ত্রী। ৩ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা সংরক্ষিত হওয়ায় সেখানে আলেমের স্ত্রীকে প্রার্থী করতে চেয়ে তৃণমূলেরই একাংশ প্রচার শুরু করেছে। যদিও জেলা তৃণমূলের নেতারা ওই ওয়ার্ডে অন্য কাউকে প্রার্থী করতে চাইছে অভিযোগ প্রাক্তন কাউন্সিলরের অনুগামীদের। প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা আলেম আলি খানের অবশ্য দাবি, ‘‘নির্দিষ্ট কাউকে প্রার্থী করতে চেয়ে পাশের ওয়ার্ডে দলের কর্মীরা হয়তো কারও নাম লিখেছে।’’
একই ছবি কাঁথি পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডেও। সেখানেও ‘সাইট ফর আর জে’ লেখা হয়েছে বহু দেওয়ালে। জানা গেল, আর জে হলেন রমেন জানা। যিনি ওই ওয়ার্ডে তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি। উল্লেখ্য, আগে ওই ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন সৌমেন্দু অধিকারী। আবার রবিবারই নিজেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাবি করে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির মহম্মদ সেখ। এ দিন তিনি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় প্রচারও করেছেন বলে খবর।
বিধানসভা ভোটের আগেই জাহাঙ্গির তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। আগেও বেশ কয়েকবার পুরনির্বাচনে ওই ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে হেরে যান। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেও নির্দল প্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গিরের প্রচার নিয়ে শোরগোল পড়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের যা পরিস্থিতি ছিল তাতে মনে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দরকার। তাই তৃণমূলকে সমর্থন করেছি। তবে ২০০৫ সাল থেকে পুরভোটে আমি এভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’’
যদিও, এই দুটি ঘটনায় নিয়ে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তরুণ মাইতি বলেন, ‘‘নির্দলের নিয়ে আমাদের দলের চিন্তা নেই। তবে কী ভাবে ওই দেওয়াল লিখন হয়েছে সে ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।’’
যদিও গোটা ঘটনায় ফের তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুদাম পণ্ডিত বলেন, ‘‘এটা তো শুধুমাত্র ট্রেলার চলছে। পুরভোটের টিকিট দেওয়ার পর অনেকেই দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেবেন।’’