school: স্কুলছুটদের ফেরাতে গ্রামে শিক্ষকেরা

গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকেরা মানছেন, ছাত্রছাত্রীদের গরহাজিরা এখনও কমেনি।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ০৭:৫২
Share:

স্কুলছুটদের খোঁজ নিতে গ্রামে শিক্ষকেরা। শালবনির জয়পুরে। নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

শালবনির দুর্গারামপুর জনজাতি অধ্যুষিত গ্রাম। গ্রামের অনেক পড়ুয়া এখনও স্কুলে ফেরেনি। সেই দলে রয়েছে উত্তম মাহাতোও।

উত্তম জয়পুর হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সামনের বছর উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। কেন কিছু পড়ুয়া স্কুলে আসছে না, তা জানতে শনিবার গ্রামে গিয়েছিল জয়পুর হাইস্কুলের শিক্ষকদের একটি দল। উত্তমের বাড়িতেও যান শিক্ষকরা৷ পরিবারের সঙ্গে কথা জানতে পারেন, উত্তম চাষের কাজে মাঠে যায়। তাই স্কুলে আর যেতে পারে না৷ স্কুলছুট বাকি পড়ুয়াদের কেউ মাঠ থেকে ধান তুলতে যায়। কেউ আবার মাঠে আলু বীজ লাগাতে যায়। তাই স্কুলে যাওয়া বন্ধ৷

Advertisement

জয়পুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘অনেক পড়ুয়াই এখনও স্কুলে আসছে না। এটা খুবই উদ্বেগের৷ স্কুলে না এসে তারা চাষের কাজে চলে যাচ্ছে।’’ প্রধান শিক্ষক জুড়ছেন, ‘‘আমরা গ্রামে গ্রামে যাচ্ছি। ওই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ছেলেদের স্কুলে পাঠাতে বলছি। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়ে একাধিক দল গঠন করেছি।’’

গত ১৬ নভেম্বর স্কুল খুলেছে। আপাতত নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। তবে প্রায়ই ফাঁকা থাকছে অনেক স্কুলের ক্লাসরুম। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে। অনেক স্কুলে পড়ুয়াদের হাজিরা ৫০ শতাংশের কম৷ জয়পুর হাইস্কুলে যেমন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার সংখ্যা ১১৫। শনিবার স্কুলে এসেছিল মাত্র ৩৭ জন। শালবনির মৌপাল হাইস্কুলে দশম শ্রেণির পড়ুয়ার সংখ্যা ১৮৯। সোমবার স্কুলে এসেছিল ৮৭ জন। গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকেরা মানছেন, ছাত্রছাত্রীদের গরহাজিরা এখনও কমেনি।

স্কুলছুটদের ফেরাতে নিজেদের মতো করে নানা উদ্যোগ করছে স্কুলগুলি। কোথাও শিক্ষকেরা দলবেঁধে গ্রামে যাচ্ছেন। অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন। কোথাও অভিভাবক সভা ডাকা হচ্ছে। পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। কোথাও মাইকে প্রচার করেও অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানোর কথা জানানো হচ্ছে। শালবনির মৌপাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রসূনকুমার পড়িয়া বলেন, ‘‘আমরা স্কুলে অভিভাবক সভা করেছি। অভিভাবকদের বুঝিয়েছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছি।’’ প্রসূনও মানছেন, ‘‘খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি, বেশ কয়েকজন পড়ুয়া স্কুলে না- . এসে চাষের কাজে চলে যাচ্ছে। চাষের কাজে পরিবারের লোকেদের সহায়তা করছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আগামী শনিবার শিক্ষকেরা কয়েকটি গ্রামে যাবেন। সেই পরিকল্পনা হচ্ছে। পড়ুয়াদের ক্লাসে ফেরাতে অভিভাবকদের বোঝানো শুরু করবেন।’’ শালবনির ভাদুতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতেশ চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরাও অভিভাবক সভা করেছি। যে সব পড়ুয়া স্কুলে আসছে না, তারা কেন আসছে না, খোঁজখবর নিয়েছি। ওই পড়ুয়ারা যাতে স্কুলে ফেরে, সে জন্য মাইকে প্রচারও চালানো হয়েছে।’’

খোঁজখবর করে জানা গিয়েছে, গরহাজিরার কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। ১) একাংশ পড়ুয়া চাষের কাজে পরিবারকে সহায়তা করছে। ২) একাংশ পড়ুয়া রোজগারের চেষ্টা শুরু করেছে৷ তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। ৩) একাংশ পড়ুয়ার দাবি, সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুল খুলছিল। ত.ওই সময়ের মধ্যে তারা স্কুলে পৌঁছতে পারছিল না। সকালে তারা টিউশনে যায়। টিউশনে ছুটিই হয় সাড়ে ৯টা নাগাদ। সোমবার থেকে অবশ্য স্কুল শুরুর সময় বদলেছে। এ বার থেকে সোম থেকে শুক্রবার, স্কুল শুরু হবে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে। ছুটি বিকেল সাড়ে ৪ টেয়। ভাদুতলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘সকালে সাড়ে ৯টার মধ্যে স্কুলে আসতে অনেক পড়ুয়ারই অসুবিধা হচ্ছিল। এদিন থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। আশা করছি, এ বার স্কুলে পড়ুয়াদের হাজিরা বাড়বে।’’

স্কুলে যাচ্ছিস না কেন? দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র উত্তমের সরল স্বীকারোক্তি, ‘‘চাষের কাজে মাঠে যাই। তাছাড়া, বন্ধুরা এখনও স্কুলে যায়নি। তাই আমিও যাইনি৷’’ সে জুড়ছে, ‘‘স্যরেরা অবশ্য স্কুলে যাওয়ার কথা বলে গিয়েছেন। দেখছি কী ভাবে কী করা যায়!’’

২০ মাস পর স্কুল খুলেছে। প্রধান শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement