ফাইল চিত্র।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকীর মধ্যে স্বস্তি পেতে চলেছেন দেশের অভাবী অথচ মেধাবী পড়ুয়ারা। দেশের মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য ‘পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ নামাঙ্কিত বৃত্তি চালু করতে চলেছে খড়্গপুর আইআইটি।
কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের মধ্যে এমন স্কলারশিপ চালুর সিদ্ধান্ত এই প্রথম। ‘পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ফুল স্কলারশিপ’ নামে এই বৃত্তি চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য এই বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে একটি শর্ত। দেশের জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় কৃতী প্রথম একশো জন পড়ুয়াকে এই বৃত্তি দেওয়া হবে বলে আইআইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম একশো স্থানাধিকারী পড়ুয়াদের মধ্যে যে ক’জন খড়্গপুর আইআইটিতে ভর্তি হবেন তাঁরাই পাবেন এই বৃত্তি। তবে পড়ুয়ার পারিবারিক আর্থিক আয় হতে হবে বার্ষিক ২০ লক্ষ টাকার নীচে। গত ১৮ অগস্ট ছিল আইআইটির প্রতিষ্ঠা দিবস। আর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর রয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মজয়ন্তী। তার আগে খোদ আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা এমন ঘোষণা করেছেন বলে খবর। খড়্গপুর আইআইটির অধিকর্তা বীরেন্দ্রকুমার তিওয়ারি বলেন, “এই বৃত্তি আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামে চালু করছি। কারণ তাঁর পাণ্ডিত্য এত দৃঢ় ছিল যে বাড়িতে গ্যাসের বাতি জ্বালানোর সামর্থ না থাকায় তিনি পথবাতির নীচে পড়াশোনা করতেন। আমরা আইআইটি কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করি যে, দেশের একজনও মেধাবী ছাত্রের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার শিক্ষা সীমিত হওয়া উচিত নয়। উচ্চশিক্ষার জন্য মেধাবী হয়েও আর্থিক প্রতিবদ্ধকতা রয়েছে এমন পড়ুয়ার পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। এতে আমরা আনন্দিত হব।”
আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে খড়্গপুর আইআইটিতে বিটেক পড়ুয়াদের মেধার মান দেখে ‘রীতেশ রঞ্জন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়। এছাড়াও ‘লার্ন-আর্ন-রিটার্ন স্কলারশিপ’ এবং ‘বিনোদ অ্যান্ড কিরণ জৈন বেস্ট সুডেন্ট স্কলারশিপে’র মতো কয়েকটি বৃত্তি রয়েছে। এগুলির মধ্যে ‘লার্ন-আর্ন-রিটার্ন স্কলারশিপে’ পড়ুয়াকে কর্মজীবন শুরুর পরে বৃত্তি আইআইটিকে ফিরিয়ে দিতে হয়। তবে এই স্কলারশিপের একটিও পড়ুয়ার সম্পূর্ণ পড়াশোনার খরচ বহন করে না। তবে এই শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হতে চলা ‘পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ফুল স্কলারশিপে’র অধীনে প্রতিটি পড়ুয়া পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ পাবেন। এমনকি শুধু পড়াশোনা নয়, পড়ুয়ার থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্ত খরচ বহন করবে খড়্গপুর আইআইটি। বিটেক ডিগ্রি শেষ হওয়া পর্যন্ত মিলবে এই সুবিধা। খড়্গপুর আইআইটির অ্যালুমনি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন অধ্যাপক সূর্যকান্ত পাল বলেন, “আমরা চাইছি মেধাবী পড়ুয়ারা যাতে আর্থিক অসঙ্গতির কথা মাথায় না রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়। তাই জয়েন্ট এন্ট্রান্সে প্রথম একশোয় থাকা পড়ুয়াদের যাবতীয় খরচ আমাদের প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এমনকি, তাঁরা ল্যাপটপও কিনতে পারেন। দেশের আইআইটির মধ্যে এটাই প্রথম।”
প্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্তে খুশি আইআইটির পড়ুয়া থেকে শিক্ষক মহল। গত কয়েক বছর ধরে দেশে-বিদেশে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনীদের থেকে আসা টাকায় একটি তহবিল গড়ে এমন নানা সামাজিক কাজ করছে আইআইটি। এই স্কলারশিপও সেই তহবিল থেকে খরচের ভাবনা রয়েছে। জয়েন্ট এন্ট্রান্স অ্যাডভান্সড অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেই মিলবে এই স্কলারশিপ। আইআইটির রেজিস্ট্রার তমাল নাথ বলেন, “চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে এই স্কলারশিপ মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে চালু হচ্ছে। প্রতিবছর একই নিয়মে এই স্কলারশিপ দেওয়া হবে।”