দলীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র
বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কয়েকদিন আগেই দলীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রদবদলে পূর্ব মেদিনীপুরে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ হারিয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘ঘনিষ্ঠ’ সংগ্রাম দোলই। যুব সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বে উটে এসেছেন অধিকারীদের বিরোধী শিবিরের সুপ্রকাশ গিরি। আর পর্যবেক্ষক পদ উঠে যাওয়ায় শুভেন্দুর অন্য জেলায় গতিবিধি ‘নিয়ন্ত্রিত’ হয়েছে।
এরপর থেকেই কখনও অরাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ সভা হচ্ছে, আবার কখনও সমাজ মাধ্যমে সরব হচ্ছেন শুভেন্দু-অনুগামীরা। এই আবহেই ‘অধিকারী গড়’ কাঁথি শহরে মঙ্গলবার সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রতিবাদ সভা ডেকেছিল ‘অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ এসসি, এসটি অ্যান্ড মাইনোরিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এ বার সেখানেও ময়নার বিধায়ক সংগ্রামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সংগঠনের রাজ্য ও জেলা নেতারা।
এ দিন ওই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন পর্ব থেকে জঙ্গলমহল— সর্বত্র তফসিলি, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘুদের সামনের সারিতে রেখে আন্দোলন করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল। এখন ক্ষমতায় আসার পর তফসিলি, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘুদের ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। এ দিনের ওই বৈঠকে ছিলেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ পাত্র, কাঁথি-৩ ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি মানিক দোলই, কাঁথি-১ ব্লকের সাবাজপুট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা ব্লক যুব সভাপতি রামগোবিন্দ দাস প্রমুখ।
জানা যাচ্ছে, সংগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মানিক বৈঠকে বলেন, ‘‘যেখানে যেখানে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, সেখানে কাদের এগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারা বুক চিতিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন, সে কথা এখনকার রাজনৈতিক নেতাদের মনে রাখতে হবে।’’ কাঁথি-১ ব্লকের সাবাজপুট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা ব্লক যুব সভাপতি রামগোবিন্দ দাসের কথায়, ‘‘আমাদের ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তফসিলি সম্প্রদায়ের লোকেদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।’’
সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ পাত্রের ব্যাখ্যা, ‘‘কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়। যেখানে আদিবাসী, সংখ্যালঘু, তফসিলিদের প্রতি অবিচার, বঞ্চনা করা হয়, সেখানেই সংগঠন অরাজনৈতিক ভাবে আন্দোলন চালায়।’’ সংগঠনকে অরাজনৈতিক বলা হলেও এ দিনের কর্মসূচি ঘিরে শোরগোল পড়েছে শাসকদলের অন্দরে। কারণ, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ পাত্র, রামগোবিন্দ দাস, মানিক দোলই-সহ বেশ কয়েকজন সদস্য তৃণমূলের জেলা এবং ব্লক স্তরের নেতা। জেলা রাজনীতিতে এঁরা অধিকারী শিবিরের লোক বলেই পরিচিত। এ দিনের ওই বৈঠক প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের তরফে ওই কর্মসূচি হয়েছিল। ওতে আমাদের দলের কয়েকজন থাকলেও এটা দলীয় কর্মসূচি নয়। ওঁদের মতামত ব্যক্তিগত।’’
সংগ্রামকে সরানো নিয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছেন ব্লকের হেঁড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা ব্লক যুব সভাপতি নীলাঞ্জন মাইতি। যদিও ফেসবুকে পোস্ট প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি তিনি। এ ব্যাপারে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি পার্থ মাইতির প্রতিক্রিয়া, ‘‘দলীয় নির্দেশ মেনে চলা সকলের উচিত। অন্যথায় ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতিকদের ক্ষতি হতে পারে।’’