এই গাড়িও আটক করেছে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।
বেআইনি ভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করল শেখ আমির আলি ওরফে আরমান ভোলা-সহ তিনজনকে। বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত এই আরমানের কাছ থেকে তিনটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড কার্তুজ ও কাগজপত্রহীন বিলাসবহুল গাড়ি মিলেছে।
তমলুক থানার পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার রাতে তমলুক এলাকা থেকে আরমানের সঙ্গে ধৃত অন্য দুই জন হল তার সহযোগী অরুনাভ কুইতি এবং হারাধন মণ্ডল। সকলের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দায়ের হয়েছে। সোমবার ধৃতদের তমলুক আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের ১১ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আরমান ভোলার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতি সরগরম। কারণ, জেলা রাজনীতিতে আরমান বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০০৯ সালে হলদিয়ার একটি বেসরকারি শিল্প সংস্থায় ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করত আরমান। ২০০৯ সালে শুভেন্দু তমলুকের সাংসদ হওয়ার পরেই তাঁর কাছাকাছি আসতে থাকে সে। অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভোলা বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করে। পাশাপাশি শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন কারখানার গেট থেকে তোলাবাজি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
হলদিয়ার তৃণমূল নেতাদের একাংশ বলছেন, অধিকারীদের ছত্রছায়ায় এই বেআইনি কাজকর্ম চলাতে থাকে আরমান। পরে সে হয়ে ওঠে হলদিয়ার ‘ত্রাস’। আদি বাড়ি কোথায়, তা জানা না গেলেও হলদিয়ার এইচপিএল লিঙ্ক রোডের পাশে আরমানের একটি প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে। দিব্যেন্দু অধিকারী তমলুকের সাংসদ হওয়ার পরে সে তারও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে থাকে বলে দাবি। এলাকার প্রভাবশালী এবং ডাকাবুকো হওয়ার সুবাদে বহু মঞ্চে অধিকারীদের সঙ্গে আরমানকে দেখা যেত।
এ ব্যাপারে তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন মহাপাত্র বলেন, ‘‘রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা হচ্ছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছেন। অথচ তাদের দলের কর্মীই অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়ছে। রাজ্যপালের এ বিষয়গুলি নজর দেওয়া উচিত।’’
শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে আরমান বিজেপিতে যোগ দেয় এবং বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দুর হয়ে প্রচারও শুরু করে। শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টার ব্যানারে সৌজন্যে আরমান ভোলার নামও দেখা যেত। সেই সময় সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে আরমানকে। তার গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আরমান ভোলা ধরা পড়েছে কি না আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’’