পুর-অনিয়ম

পাইপ থেকেই বেরোয় ময়লা, জল খাব কী!

জেলা সদর তমলুকে বহুতল বেড়েছে কয়েকগুণ। অভিযোগ, ওই নির্মাণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরসভার নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। পানীয় জল, নিকাশির পরিকাঠামোর উন্নতিতেও খামতি থেকে গিয়েছে। যা নিয়ে সরব পুরবাসী। পুর নজরদারিতে কোথায় গাফিলতি—খোঁজ নিল আনন্দবাজার।জলের জোগান সত্ত্বেও বাসিন্দাদের অনেকের অভিযোগ, জল পেলেও তা পানের যোগ্য কি না তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে। কারণ, পাত্রে জল রাখলে তা একটু পরেই হলুদ হয়ে যায়। ভূগর্ভস্থ জল সরবরাহ করা হলেও তার গুণগতমান পরীক্ষা হয় না বলেও তাঁদের সন্দেহ।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:২০
Share:

পদুমবসান এলাকায় পানীয় জল সংগ্রহের লাইন। নিজস্ব চিত্র

সকাল ৬টা থেকে ৯টা। বেলা ১২টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা। পুর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সারাদিনে এই তিন বার পানীয় জল সরবরাহ করে পুরসভা। তবে কোথাও জলের চাপ বেশি, কোথাও জলের চাপ একেবারেই কম এমন অভিযোগও পুরনো হয়ে গিয়েছে। এমনকী নির্দিষ্ট সময়ে কল খুললে জল না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বাসিন্দাদের।

Advertisement

জলের জোগান সত্ত্বেও বাসিন্দাদের অনেকের অভিযোগ, জল পেলেও তা পানের যোগ্য কি না তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে। কারণ, পাত্রে জল রাখলে তা একটু পরেই হলুদ হয়ে যায়। ভূগর্ভস্থ জল সরবরাহ করা হলেও তার গুণগতমান পরীক্ষা হয় না বলেও তাঁদের সন্দেহ। ফলে অনেকেই পানীয় হিসাবে জল কিনে খাওয়াই নিরাপদ মনে করছেন। ধারিন্দার বাসিন্দা বিধান সামন্তের অভিযোগ, ‘‘জলের পাইপলাইনগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে পাইপলাইনের ভিতরে জমে থাকা ময়লা জলের সঙ্গে চলে আসে। ওই জল খাব কী!’’ পদুমবসান এলাকার বাসিন্দা ফিরোজা বিবির অভিযোগ, ‘‘বাড়ির কাছে ট্যাপকলে জলের চাপ নেই বললেই চলে। ফলে জল নিতে অনেক সময় চলে যায়। জল নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ রোজকার রুটিন হয়ে গিয়েছে।’’

শহরবাসীর একাংশের অভিযোগ, যে সব জলের এই পাইপ লাইন বসানো হয়েছিল, তখন লোকসংখ্যা অনেক কম ছিল। তাই প্রথম দিকে সমস্যা হয়নি। কিন্তু দিনে দিনে জনসংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে পানীয় জলের চাহিদাও। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাইন লাইন বদলানো হয়নি। তার কারণেই এখন পানীয় জল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। গরমকালে তো সমস্যা আরও প্রকট হয়।’’

Advertisement

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে খবর, তমলুক পুরসভার বয়স দেড়শো পেরিয়ে গিয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পানীয়জলের চাহিদাও বাড়ছে। আগে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর পাম্পহাউস ও জলাধার তৈরি করে জল সরবরাহ করত। পরে চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকায় পাম্পহাউস বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তুলে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে ৩৫টি পাম্পহাউস রয়েছে। কিন্তু এখন ভূগর্ভে জলস্তর নেমে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে রূপনারায়ণ নদীর জল পরিস্রুত করে সরবরাহ প্রকল্প গড়ার জন্য ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন বলেন, জলের গুণগতমাণ পরীক্ষার জন্য নিয়মিত জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কাছে পাঠানো হয়। জলের গুণগত মান ঠিকই রয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশ জলের যথেচ্ছ ব্যবহার করায় কিছু এলাকায় সমস্যা হচ্ছে। এর জন্য মিটার লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন জলপ্রকল্পের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।’’

অন্যদিকে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পদুমবসান এলাকার বাসিন্দা নীলকণ্ঠ পাত্রের অভিযোগ, ‘‘আমাদের আবাসনের পাশেই নতুন আবাসন নির্মাণের সময় দুটি আবাসনের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব না রাখায় আবাসন সংলগ্ন প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হয়েছিল। পুরসভার কাছে অভিযোগ জানানোর পর থেকেই নির্মীয়মাণ আবাসনের মালিক হুমকি দিচ্ছেন।’’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মীয়মাণ আবাসনের কর্তা খাইরুল হোসেন বলেন, ‘‘একই জায়গায় পাশাপাশি আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে কাজের সময় কিছু ভুল ত্রুটি হয়েছে। পুরসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’’

এবিষয়ে পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন বলেন, ‘‘পদুমবসান এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ আবাসনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আমরা তদন্ত করে দেখেছি ওই আবাসন এবং পাশেই আগে নির্মিত আবাসনের কাজ নিয়ম মেনে হয়নি। দুই আবাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ পুর নজরদারির অভাব নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে পুরপ্রধানের দাবি, ‘‘বেআইনি নির্মাণের সময় কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্মাণ হয়েছে। ওই আবাসনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক তমলুক শহরে আবাসন নির্মাণে যুক্ত এক প্রোমোটার বলেন, ‘‘আবাসনের নির্মাণ কাজের সময় পুরসভার যে রকম নজরদারি প্রয়োজন তার কিছুই হয় না। ফলে বেশ কয়েকটি আবাসনের নিকাশি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুরসভা নজরদারি না বাড়ালে ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যা বাড়বে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement