Amulya Maity

অমূল্যের দলবদলে ভাঙন মানস গড়ে

বরাবর সাংসদ মানসের বিরোধী বলে পরিচিত ছিলেন অমূল্য। ২০১৬ সালে কংগ্রেস থেকে মানস সদলবদলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিরোধের মাত্রা বাড়ে।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২০ ০৪:২৯
Share:

—প্রতীকী ছবি।

জল্পনাই সত্যি হল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জনসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি। ভাঙন ধরল সাংসদ মানস ভুঁইয়ার ‘গড়’ সবংয়ের তৃণমূলে। অমূল্যের সাথী হয়েই শাহের জনসভায় পৌঁছলেন সবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও তিন কর্মাধ্যক্ষ-সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা।

Advertisement

বরাবর সাংসদ মানসের বিরোধী বলে পরিচিত ছিলেন অমূল্য। ২০১৬ সালে কংগ্রেস থেকে মানস সদলবদলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিরোধের মাত্রা বাড়ে। এই আবহে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ অমূল্যের বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছিল কার্যত সময়ের অপেক্ষা। এ দিন বিজেপির পতাকা না ধরলেও অমূল্যর সঙ্গেই অমিত শাহের সভায় এসে সবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও তিন কর্মাধ্যক্ষ-সহ একঝাঁক নেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁরাও তৃণমূল ছাড়ছেন।

অমূল্য বলেন, “কাগুজে বাঘ মানস ভুঁইয়ার নোংরা রাজনীতিতে সবংয়ে আদি তৃণমূল দমবন্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে। নব্যদের একক সিদ্ধান্ত, ক্রমাগত অসম্মানে অতিষ্ট হয়েই পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি, তিন কর্মাধ্যক্ষ-সহ বহু নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে বিজেপির সভায় এসেছেন। ওঁরা পরে বিজেপিতে যোগ দেবেন।” মানসের অবশ্য প্রতিক্রিয়া, “স্বাধীন, গণতন্ত্রের দেশে যাঁরা দিদির সৈনিক হিসাবে গর্ব করতেন, তাঁদের কেউ যদি পদ্মফুলের চাষ করতে যায় আমি কী করব! জনগণ বিচার করবে।”

Advertisement

এ দিন সবংয়ের প্রতিটি অঞ্চল থেকে অমূল্য অনুগামী তৃণমূলের বহু কর্মী মেদিনীপুরে শাহের সভায় আসেন। তাঁদের দাবি, ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ১৮টি বাস-সহ প্রায় ৩২টি গাড়িতে তাঁরা মেদিনীপুর পৌঁছেছিলেন। এসেছিলেন সবং পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গুরুপদ মান্না, কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মাইতি, অশোক চিনি ও মাধব পাত্রের উপস্থিতি। এছাড়াও অমূল্য মাইতির ছেলে শুভেন্দু অনুগামী শেখর মাইতি, দেভোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সনাতন দিত্য, তৃণমূলের নেতা নারায়ণ সাঁতরা, নিবারণ সামন্ত-সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা।

তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি বর্ষীয়ান প্রভাত মাইতি বলেন, “মানস ভুঁইয়ারা যেভাবে দলটা চালাতে চাইছে তার বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। মানসের জন্য তৃণমূল এখানে ভেঙে চুরমার হচ্ছে। এমনকি মানসদের অন্যায়ের অভিযোগ জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েও সুফল পাইনি। স্বাভাবিকভাবে কর্মীদের এই বিজেপির সভায় যাওয়ায় আমার নৈতিক সমর্থন রয়েছে।”

কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতির পদে থেকেও কেন বিজেপির দিকে পা বাড়ালেন? পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গুরুপদ মান্না বলেন, “দলে নতুনরা পঞ্চায়েত সমিতি চালাচ্ছে। কাজের সুযোগ নেই। কোনও বৈঠকে আমাদের ডাকা হয়না। বাধ্য হয়ে আমরা অমূল্যদার নেতৃত্বে বিজেপির সভায় এসেছি।”

অবশ্য এ সবে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “কয়েকজন নেতা গেলে দল ভাঙবে না। কর্মীরা কেউ যাবেনা। কারও মনে হয়েছে এখানে যা নেওয়ার তা পূরণ হয়েছে এ বার ওখানে যাব। এতে আমাদের দলের কোনও ক্ষতি হবে না।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement