(বাঁ দিকে) দেবেন্দ্র ফডণবীস এবং একনাথ শিন্দে (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বৃহন্মুম্বই পুরসভার মেয়র নির্বাচন নিয়ে টানাপড়েনের আবহে বিজেপিকে স্বস্তি দিল উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের শিবসেনা। সোমবার শিন্দেসেনার তরফে বলা হয়েছে, ‘‘বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাজুটির প্রতি মুম্বইবাসী আস্থা রেখেছেন। সেই জনাদেশের প্রতি সম্মান জানাবেন শিন্দে।’’
দেশের বৃহত্তম (জনসংখ্যা এবং বাজেটের নিরিখে) পুরসভার ভোটপর্ব মিটলেও মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। ভোটপর্বের পরেই শিন্দে শিবির জয়ী প্রার্থীদের হোটেলবন্দি করায় দলে ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২২৭ ওয়ার্ডের বৃহন্মুম্বই পুরসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৪টি আসন। বিজেপি ৮৯ এবং শিন্দেসেনা ২৯টিতে জিতেছে। অর্থাৎ দু’দলের মোট আসনসংখ্যা ১১৮— ‘জাদুসংখ্যার’ চেয়ে মাত্র চারটি বেশি। এই পরিস্থিতিতে শিন্দে শিবির জয়ী প্রার্থীদের হোটেলবন্দি করায় শিবসেনায় ভাঙনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ৬৫টি আসনে জেতা শিবাসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে শনিবার জানান, মুম্বইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি)-র কাউকে মেয়র করা তাঁর স্বপ্ন। ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
পাটিগণিত বলছে, শিন্দে শিবিরে ভাঙন ধরাতে পারলেই তুতোভাই রাজ ঠাকরের দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার ৬, কংগ্রেসের ২৪ এবং অন্য ছোট দলগুলির সাহায্যে ক্ষমতা দখল করতে পারবেন উদ্ধব। ভোটের ফলপ্রকাশের পর এখন সকলের নজর শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথের দিকে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউথ সোমবার খোঁচা দিয়েছেন ‘মহাজুটি’র বড় শরিককে। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপিও এ বার তাদের সদ্যবিজয়ী কর্পোরেটর (কাউন্সিলর)-দের নিরাপদ জায়গায় সরাবে।’’
অন্য দিকে, কর্পোরেটরদের হোটেলবন্দি করার অভিযোগ খারিজ করে শিন্দেসেনা জানিয়েছে, এটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। শিন্দেকে তাঁদের (নবনির্বাচিত কর্পোরেটর) সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং তাঁদের কাছ থেকে তিনি কী আশা করেন তা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই সকলকে একত্রে রাখা হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে শিন্দেকে সামনে রেখেই উদ্ধবের শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়েছিল বিজেপি। শিন্দেকে মুখ্যমন্ত্রী করে সরকার গড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’-কে হারিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে তারা। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল হয়েছে। একনাথের বদলে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন আর একনাথ পান উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ। যা নিয়ে শিন্দে-অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল সে সময়।