ঘর ভাঙতে যাওয়ার মুহূর্ত। নিজস্ব চিত্র ।
দখল হয়ে গিয়েছিল ব্যক্তিগত জমি। সেই জমির উপরে তৈরি হয়েছিল সার সার বাড়ি। জমি দখল মুক্ত করতে বহু বছর ধরে মামলা চলছিল। জমিটি চন্দ্রকোনা শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকায় রয়েছে জমিটি। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে ওই জমিতে থাকা বেআইনি দু’টি বাড়ি ভাঙতে গিয়ে বাধা পেল পুলিশ প্রশাসন। মূলত ওই বাড়ির সদস্যরা পুলিশের পা জড়িয়ে কান্নাকাটি করতে শুরু করেন বলে খবর। সেই সময়ে এক জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সবমিলিয়ে অস্থির পরিবেশ তৈরি হয় এলাকায়। সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ফিরে আসে পুলিশ প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনা আদালতে জানিয়ে নতুন দিন চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। চন্দ্রকোনা-২ বিডিও উৎপল পাইক বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশে বাড়ি ভাঙতে গিয়ে ঘুরে আসতে হয়েছে। স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতে নতুন দিনও চাওয়া হয়েছে।’’
রঘুনাথপুর এলাকায় দখল করা জমিটি স্থানীয় রানা পরিবারের। ৫৭ ডেসিমেল ফাঁকা জমির উপর চার দশক আগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তৈরি হয়েছিল সার সার বাড়ি। মোট ১৩টি পরিবার রয়েছে। সব বাড়ি মাটির। পুরসভার তরফ থেকে ‘সবার জন্য ঘর’ প্রকল্পে বাড়ির অনুমোদন মিলেছিল। কিন্তু জমি জটে তা আটকে যায়। পুর শহর এলাকায় ব্যক্তিগত জমি দখল করে বাড়ি তৈরি হওয়ায় রানা পরিবারের তরফে আদালতে মামলা করা হয়।
মামলা চলছিল দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই। দিন কয়েক আগেই আদালত ওই জমি ফাঁকা করার নির্দেশ দেয় পুলিশ প্রশাসনকে। আপাতত নির্দিষ্ট দাগের দু’টি বাড়ি ভাঙার নির্দেশ ছিল। নিয়ম মেনে আদালতের নথি ও বুলডোজার নিয়ে এ দিন বাড়ি ভাঙতে এলাকায় যায় পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সঙ্গে ছিলেন চন্দ্রকোনা-২ বিডিও। তার আগে অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতের নির্দেশের খবর ও ঘর খালি করে দেওয়ার কথা প্রচার করা হয়েছিল। নোটিস ধরানোর জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু কেউ নোটিস হাতে নেননি বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ি ভাঙার প্রস্তুতি শুরু হতেই বাধা আসে বাড়ির সদস্যদের কাছ থেকে। মহিলা ও ছোটরা ঘর থেকে বেরিয়ে পুলিশ প্রশাসনের পা জড়িয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। ‘কোথায় থাকব’ দাবি করে বাড়ি ভাঙতে বাধা দেওয়া হয়। এমন আবহে এক পুরুষ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফিরে যায় প্রশাসন। সরিয়ে নেওয়া হয় বুলডোজারও। তবে আদালতের নির্দেশ বহাল থাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছেপুলিশ প্রশাসন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে