আফ্রিকান উপপ্রজাতির চিতা। —ফাইল চিত্র।
নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার পরে এ বার আফ্রিকার আর এক দেশ বৎসোয়ানা থেকে চিতা নিয়ে আসা হল ভারতে। শনিবার সকালে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে তাদের গ্বালিয়র থেকে মধ্যপ্রদেশের পালপুর কুনো জাতীয় উদ্যানে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সে রাজ্যের বন দফতর জানিয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় বনাঞ্চলে আফ্রিকার চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব পার্কে প্রস্তুত করা জাল ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে চিতাগুলিকে ‘সফ্ট রিলিজ়’ করেছেন। প্রজেক্ট চিতার পরিচালক উত্তম শর্মা বলেন, ‘‘বৎসোয়ানা থেকে বায়ুসেনার বিমানে ন’টি চিতাকে গ্বালিয়র বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই নিয়ে তৃতীয় দফায় ভারতে আফ্রিকার চিতা আনা হল।’’ তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত তিনটি চিতাকে মধ্যপ্রদেশের গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ৩৬টি কুনো জাতীয় উদ্যানে রয়েছে।’’ প্রায় সাত দশক আগে ভারতে চিতা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে অন্য দেশ থেকে আফ্রিকান উপপ্রজাতির চিতা এনে ভারতের বিভিন্ন অরণ্যে চিতার সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে। ভারত থেকে বিলুপ্ত হওয়া এশীয় উপপ্রজাতির চিতা এখন শুধু ইরানে রয়েছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা ভারতে আনা হয়েছিল। কুনোর জঙ্গলে তাদের খাঁচা উন্মুক্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পর ২০২৩ ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছিল আরও ১২টি। পরবর্তী সময় তারা ১২টি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক এবং শাবক মিলে বেশ কয়েকটি চিতার মৃত্যু হয়। ফলে ভারতের মাটিতে আফ্রিকার চিতার টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কুনোয় চিতার মৃত্যু ঠেকাতে ব্রিটেন এবং আমেরিকার কয়েক জন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা জানিয়েছিলেন, উত্তর আফ্রিকা থেকে চিতা আনা হলে তা ভারতের আবহাওয়ার পক্ষে উপযুক্ত হবে। শর্মা জানিয়েছেন, গত বছর পার্কে ১২টি শাবকের জন্ম হয়েছিল। যদিও তিনটি শাবক-সহ ছয়টি চিতার মৃত্যু হয়। এ বছর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দু’টি দফায় ন’টি শাবকের জন্ম হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে কুনোতে মোট ৩৯টি শাবকের জন্ম হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি বেঁচে রয়েছে।