WB Elections 2026

‘বিবেচনাধীনদের’ নিষ্পত্তি, বিচারক কমল পশ্চিমে

সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৯,৩০০ জন ভোটারের বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত নথি যাচাই বাকি ছিল প্রায় ৬৪,১০০ জন ভোটারের।

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৫
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের তদারকিতে নিযুক্ত বিচারকের সংখ্যা কমেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। এক সময়ে এই জেলায় নিযুক্ত ছিলেন ২১ জন বিচারক। সূত্রের খবর, এখন রয়েছেন ১৮ জন। তিন জন বিচারককে পাঠানো হয়েছে মুর্শিদাবাদে। কারণ, সেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাই করতে হবে। সব দিক দেখেই কলকাতা হাই কোর্টের ওই পদক্ষেপ।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার প্রায় এক লক্ষ তিন হাজার ৪০০। জেলায় নথি যাচাইয়ে নিযুক্ত বিচারক কমেছে। তাহলে কাজে দেরি হবে না? জানা যাচ্ছে, অন্য অনেক জেলার থেকে এখানে কাজের গতি বেশি। আশা করা হচ্ছে, চলতি মার্চের মধ্যেই এখানে ‘বিবেচনাধীনদের’ নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি সারা হয়ে যেতে পারে। বিচারকেরা নথি যাচাই শুরু করেছেন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে। সূত্রের খবর, জেলায় দিনে গড়ে তিন-চার হাজার ভোটারের নথি যাচাই হচ্ছে। এক-একজন বিচারক দিনে গড়ে ২০০-২৫০ জন ভোটারের নথি যাচাই করছেন।

৯ মার্চ, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ৩৯,৩০০ জন ভোটারের বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। ওই দিন পর্যন্ত নথি যাচাই বাকি ছিল প্রায় ৬৪,১০০ জন ভোটারের।অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রায় ৬২ শতাংশের নিষ্পত্তি বাকি ছিল। কাজের যা গতি, তাতে আগামী দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে এই জেলায় নথি যাচাই সম্পূর্ণ হতে পারে বলে আশা। জেলার নির্বাচন-আধিকারিকেরা অবশ্য এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। তাঁরা মনে করাচ্ছেন, বিষয়টি বিচার বিভাগীয়। কেশিয়াড়ির ক্ষেত্রে নিষ্পত্তির কাজ প্রায় শেষের মুখে। এখানে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছে প্রায় ২,৫৩০। গত সোমবার পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ২,৪২০। অর্থাৎ, প্রায় ৯৬ শতাংশের নিষ্পত্তিই সারা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে নথি যাচাইয়ে এই জেলায় শুরুতে চার জন বিচারককে নিযুক্ত করা হয়। পরে বিচারকের সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়েছিল। যাচাই কেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে। শুরুতে শুধু মেদিনীপুরেই যাচাই হচ্ছিল। পরে খড়্গপুর, ঘাটাল, গড়বেতায় যাচাই শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে বিচারক নিযুক্ত করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। উল্লেখ্য, তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) ক্ষেত্রে নথিপত্র যাচাই এবং তা নিষ্পত্তির দায়িত্ব বর্তেছে রাজ্যের বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উপর। সুপ্রিম কোর্টই জানিয়েছে, এই কাজ করবেন বিচারকেরা। সূত্রের খবর, নির্ধারিত দিনের মধ্যে (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলাস্তরে বেশ কিছু নথি যাচাই বাকি ছিল। সেগুলি যাচাই করছেন বিচারকেরা। পাশাপাশি, যাঁদের ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও-দের সঙ্গে কমিশন নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের ‘মতভেদ’ তৈরি হয়েছিল, তাঁদের নথিও যাচাই করছেন বিচারকেরা।জেলার এক নির্বাচন-আধিকারিক মানছেন, ‘‘আমাদের জেলায় এক লক্ষের কিছু বেশি ভোটারের নথি বিচার বিভাগীয় যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।’’

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর পরে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা (স্‌প্লিমেন্টারি) প্রকাশের কথা। সেগুলিকেও চূড়ান্ত তালিকা হিসাবে ধরা হবে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে কলকাতা হাই কোর্টই। যে নথি শুনানি-পর্বে আপলোড হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ‘বিচার’ এবং নিষ্পত্তি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট একটি ট্রাইবুনাল গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে। বাদ পড়া ভোটারেরা সেখানে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারবেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন