TMC

তৃণমূল কর্মীকে গুলি, ধৃত ৩ নিজস্ব সংবাদদাতা ভূপতিনগর

৫-৭ দুষ্কৃতীর দলটি চারটি মোটর বাইকে চেপে এসে মাধাখালি বাজার সংলগ্ন এক্তারপুরে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালায়।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২১ ০৬:০০
Share:

প্রতীকী ছবি।

দলীয় কার্যালয়ে দুষ্কৃতীরা ঢুকে গুলি চালালে জখম হলেন এক তৃণমূল কর্মী। মঙ্গলবার রাতে ভগবানপুর-২ ব্লকের জুখিয়া পঞ্চায়েতে এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। রাতেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে আহতের পরিবার। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবারের ঘটনার পাল্টা হিসাবে বুধবার সকাল থেকে এলাকার বিজেপি সমর্থিত বেশ কয়েকটি পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।

Advertisement

তৃণমূল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ ৫-৭ দুষ্কৃতীর দলটি চারটি মোটর বাইকে চেপে এসে মাধাখালি বাজার সংলগ্ন এক্তারপুরে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালায়। সে সময় দ্বারকেশ দাস নামে এক তৃণমূল কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় মুগবেড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান দলের কর্মীরা। সেখান থেকে তাঁকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। গোটা ঘটনায় বিজেপিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ভগবানপুর-২ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শশাঙ্ক জানা। তিনি বলেন, ‘‘ওই দিন সন্ধ্যেবেলায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে চা খাচ্ছিলেন কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। হঠাৎই মোটর বাইকে চড়ে একদল দুষ্কৃতী পার্টি অফিসের গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। দলের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগে তারা্ অফিসে ঢুকে গুলি চালাতে শুরু করে। গুলি লেগে লুটিয়ে পড়েন দ্বারকেশ। এরপরে তাড়া করলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালায়।’’

ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, ‘‘তৃণমূলের হাতে যাঁরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন তাঁরাই নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছেন। তবে তা আইন মেনে হয়েছে কিনা প্রশাসন তার তদন্ত করে দেখবে।’’

Advertisement

ঘটনার পর রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ভূপতিনগর থানার পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এদিকে এই ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকে এলাকা জুড়ে বিজেপি সমর্থিত বেশ কয়েকটি পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ভগবানপুর বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির পর্যবেক্ষক সুব্রত মহাপাত্র বলেন, ‘‘তৃণমূল কর্মীকে কারা গুলি করেছে তা সঠিকভাবে না জেনেই আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়েছে। ভগবানপুরে বিজেপি কর্মীদের উপর যে ভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে শাসক দল তাতে সকলেই আতঙ্কিত।’’ তবে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।

প্রসঙ্গত, সোমবার পার্শ্ববর্তী বাসুদেববেড়িয়ায় একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। তার বদলা নিতে নাকি ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতায় ওই তৃণমূল কর্মীকে গুলি করা হয়েছে তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

এদিনের অশান্তির পর গোটা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকা জুড়ে চলছে তল্লাশি। জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’’ ধৃত তিনজনকে বুধবার কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ
দেন বিচারক।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement