অজুহাত নয়, দ্রুত প্রকল্প শেষ করতে নির্দেশ

কোনও অজুহাত চলবে না। উন্নয়নের কাজ থমকে গেলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই কাজে কোনও একটি স্তর নয়, প্রতিটি স্তরেই জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোথাও কোনও সমস্যা হলে সরাসরি জেলাশাসকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারবেন পঞ্চায়েত প্রধান। জেলাশাসক হিসাবে যোগ দিয়েই পঞ্চায়েত থেকে জেলা সব স্তরের প্রশাসনিক কর্তাদেরই এই বার্তা দিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা। তাতে সায় দিলেন জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহও।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০১৪ ০০:৩৩
Share:

জেলা পরিষদের প্রদ্যোত্‌ স্মৃতি সদনে চলছে বৈঠক।—নিজস্ব চিত্র।

কোনও অজুহাত চলবে না। উন্নয়নের কাজ থমকে গেলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই কাজে কোনও একটি স্তর নয়, প্রতিটি স্তরেই জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোথাও কোনও সমস্যা হলে সরাসরি জেলাশাসকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারবেন পঞ্চায়েত প্রধান। জেলাশাসক হিসাবে যোগ দিয়েই পঞ্চায়েত থেকে জেলা সব স্তরের প্রশাসনিক কর্তাদেরই এই বার্তা দিলেন জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা। তাতে সায় দিলেন জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহও।

Advertisement

উন্নয়নে গতি আনতে এবং সর্বস্তরে সমন্বয় গড়ে তুলতে জেলা পরিষদের প্রদ্যোত্‌ স্মৃদি সদনে বৃহস্পতিবার এক বৈঠক ডেকেছিলেন জেলাশাসক। যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিডিও, মহকুমাশাসক থেকে প্রশাসনের অন্য আধিকারিকেরাও। বৈঠকে জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দেন, ‘কাজ করতে হবে। কোনও অজুহাত চলবে না। সমস্যা হলে সরাসরি আমাকে জানাবেন।’ সভাধিপতি উত্তরা সিংহও বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জেলায় উন্নয়নের জোর মুখ্যমন্ত্রী নিজেও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদেরও তা করে দেখাতে হবে।’

যদিও এক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথাও তোলেন পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরা। এর মধ্যে বিশেষ ভাবে ছিল, কর্মী সঙ্কট, ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা প্রভৃতি। ইন্দিরা আবাস যোজনার টাকা থাকলেও তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ঢিলেমি, একশো দিনের কাজ করানোর পরেও সময়ে টাকা মেলার কথাও ওঠে। যদিও প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়ে দেন, ছোটখাটো সমস্যা থাকবেই। সমস্যার মাঝেও কাজ করতে হবে। সমস্যাকে অজুহাত করা যাবে না।

Advertisement

জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, “কোনও ক্ষেত্রেই যাতে সমন্বয়ের অভাব না দেখা যায়, নিয়ম মেনে প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা ও টাকা পৌঁছে যায়, তা নিয়েই আলোচনা হল। উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এই ধরনের বৈঠক মাঝে মধ্যেই করা হবে। যাতে সরাসরি প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। কারও কোনও সমস্যা হলে যাতে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেন।” জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহ বলেন, “একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে পরিকল্পনা তুলে আনা ও কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই এই বৈঠক। আমরা চাই, দ্রুত প্রকল্প রূপায়িত হোক।”

সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচন গিয়েছে। নির্বাচন বিধি লাগু থাকায় দীর্ঘ দিন উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ ছিল। ইতিমধ্যেই আবার জেলাশাসকেরও বদলিও হয়েছে। নতুন জেলাশাসক হিসাবে যোগ দিয়েছেন জগদীশপ্রসাদ মিনা। তিনি জেলায় নতুন আসায় জেলার কাজকর্ম সম্বন্ধে ততটা অবহিত নন। কিন্তু তাই বলে তো উন্নয়ন থমকে থাকতে পারে না। বর্তমানে উন্নয়নের নানা প্রকল্প রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আইএপি (ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকশন প্ল্যান), বিআরজিএফ, স্পেশাল বিআরজিএফ, একশো দিনের কাজ, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প-সহ গুচ্ছ প্রকল্পের কাজ রয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে ওই সব কাজের অবস্থা কেমন। কোন পঞ্চায়েত কোন খাতে কত টাকা পেয়েছে, সেই টাকা খরচ হয়েছে কিনা, খরচ হলে নির্দিষ্ট সময়ে খরচের হিসাব জমা দিচ্ছে কি না, খরচ না করা গেলে কী কারণে খরচ করা যায়নি, সেক্ষেত্রে কী সমস্যা রয়েছে তা জানতেই এ দিন বৈঠক ডাকা হয়েছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তার মধ্যে বড় সমস্যা হল, আবাসন প্রকল্প। যেখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে সময়ে তালিকা তৈরি করা যায় না। ফলে টাকা থাকলেও গরিব মানুষকে বাড়ি করে দেওয়া যাচ্ছে না। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে সময়ে টাকা মিলছে না। পঞ্চায়েতে কোটি কোটি টাকা ধার। যা নিয়ে মাঝে মধ্যে বিক্ষোভ পর্যন্ত হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একশো দিনের প্রকল্পে টাকা যাতে দ্রুত পাঠানো যায় সে ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে আবাসন প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে ভবিষ্যতে যাতে দেরি না হয়, দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণ করা যায়, সে ব্যাপারে পঞ্চায়েত প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদের আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement