মাঠের খন্দ বোজাচ্ছে স্কুল পড়ুয়ারাই। ছবি: দেবরাজ ঘোষ।
জঙ্গলমহল উত্সব শেষ হয়ে গেলেও ঝাড়গ্রাম কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের মাঠ পরিষ্কারের কাজ শেষ হয়নি। প্রকাণ্ড মাঠটির চারিদিকে অজস্র গর্ত। ছোট, বড়, মাঝারি নানা মাপের অগুন্তি পেরেক ছড়িয়ে রয়েছে মাঠময়। এমন মাঠে কীভাবে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যাবে তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৮ জানুয়ারি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ধার্যদিন। তার আগে আজ, মঙ্গলবার থেকে স্পোর্টসের জন্য প্রতিযোগী বাছাই-পর্বের খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠের অবস্থা দেখে ঝুঁকি নিতে রাজি নন স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাঠটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত খেলাধূলো করতে পারছে না পড়ুয়ারা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ একেবারেই নিশ্চুপ। এর কারণ, স্কুলের সভাপতি হলেন দুর্গেশ মল্লদেব। দুর্গেশবাবু ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ঝাড়গ্রামের পুরপ্রধানও। ফলে, মুখে কার্যত কুলুপ এঁটে রয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে ঝাড়গ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী বয়েজ স্কুল কুমুদকুমারী ইন্টিটিউশনের মাঠে জঙ্গলমহল উত্সবের আয়োজন করা হয়েছিল। উত্সবের মঞ্চ ও স্টল তৈরির বাঁশ পোঁতার জন্য অজস্র গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। মাঠের সবুজ ঘাসের উপর মাটি ফেলে সমতল করা হয়। উত্সবের শুরুর দিনে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর উপস্থিতিতে মঞ্চে প্রধান শিক্ষক অনুপকুমার দে জানিয়েছিলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উত্সব শেষ হলে মাঠের চেহারা আগের মতো ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে মাঠে ঘাস রোপণ করে দেওয়া হবে।’ কিন্তু উত্সব শেষ হওয়ার ৯ দিন পরেও মাঠের বেহাল চেহারার এতটুকু পরিবর্তন হয়নি। মূল মঞ্চ ও স্টলগুলির বাঁশের কাঠামো খুলে ফেলা হলেও চতুর্দিকে পেরেক ছড়িয়ে রয়েছে। মাঠের অনেকটা অংশ জুড়ে তৈরি হয়েছিল জঙ্গলমহলের হস্তশিল্প ও কারিগরি হাট। সেই হাটের কাঠামোটি এখনও খোলা হয়নি।
স্কুল কর্তৃপক্ষ চুপ করে থাকলেও অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একাংশের বক্তব্য, “এ ভাবে স্কুলের মাঠটির দফারফা না করে মেলার জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজুক প্রশাসন।” গত বছরও স্কুলের খেলার মাঠে জঙ্গলমহল উত্সব হয়েছিল। সেবার মাঠে এত পেরেক পড়েছিল, যে শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই শক্তিশালী চুম্বক দিয়ে পেরেক পরিষ্কার করেছিলেন। সোমবার স্কুল চত্বরে গিয়ে দেখা গেল স্কুলের দুই ক্রীড়া শিক্ষক ইন্দ্রাণী মাহাতো ও অতীনকুমার সেনাপতি মাঠ পরিদর্শন করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। জানালেন, এমন মাঠে খেলাধুলো করা সম্ভব নয়। পরক্ষণেই দুই শিক্ষকের বক্তব্য, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে মাঠটি ঠিক হয়ে যাবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনুপকুমার দে বললেন, “পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী মাঠটি আগের মতো করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠ পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
এদিন মাঠ থেকে পেরেক খোঁজার ফাঁকে স্কুল পড়ুয়া সুদীপ্ত মাহাতো, সৌরভ কবিরাজ, ললিত সিংহ, সৌভিক মণ্ডলরা বলে, “মাঠে অনেক গর্ত এখনও বোজানো হয়নি। অনেক পেরেক পড়ে রয়েছে যেগুলি চোখে দেখা যাচ্ছে না।” স্কুলের সভাপতি তথা পুরপ্রধান দুর্গেশ মল্লদেব মন্তব্য করতে চাননি। তবে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো সোমবার বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠটিকে মেরামত করে ঘাস রোপণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”