উদ্যোগী হিজলির প্রাথমিক স্কুল

কম্পিউটার শিখছে খুদেরা

মাধ্যমিক স্তরে বেশিরভাগ স্কুলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এখনও সে ব্যবস্থা নেই। প্রযুক্তির যুগে ছেলেমেয়েদের ছোট থেকেই কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় করাতে তাই উদ্যোগী হল খড়্গপুর আইআইটি সংলগ্ন হিজলি জুনিয়র বেসিক স্কুল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৫
Share:

স্কুলে নতুন কম্পিউটার, খুশি পড়ুয়ারা। নিজস্ব চিত্র।

মাধ্যমিক স্তরে বেশিরভাগ স্কুলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এখনও সে ব্যবস্থা নেই। প্রযুক্তির যুগে ছেলেমেয়েদের ছোট থেকেই কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচয় করাতে তাই উদ্যোগী হল খড়্গপুর আইআইটি সংলগ্ন হিজলি জুনিয়র বেসিক স্কুল। আইআইটি-র সহযোগিতায় গড়ে ওঠা কম্পিউটার শিক্ষাকেন্দ্রের উদ্বোধন হল মঙ্গলবার, স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে। পড়ুয়ারা এখানে বিনামূল্যে কম্পিউটার শিখবে। ছিলেন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সুদীপ্ত মালাকার, স্থানীয় কাউন্সিলর রীতা সেনগুপ্ত, চিকিৎসক ইন্দ্রনীল কুলাভি।

Advertisement

এ দিন স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সফলদের পুরস্কৃত করা হয়। সুভাষচন্দ্র বসুর বিরল জীবনের নানা তথ্য ও ছবি নিয়ে হয় প্রদর্শনী। প্রকাশিত হয় দেওয়াল পত্রিকা ‘শিশুসাথী’র তৃতীয় সংখ্যা। বিনামূল্যে স্কুলের সাড়ে তিনশো পড়ুয়ার রক্তের গ্রুপ নির্ণয় শিবির হয়। স্কুলে মুক্তমঞ্চ গড়তে অর্থসাহায্য করেন স্থানীয় কাউন্সিলর।

আইআইটি কর্মীর ছেলেমেয়েদের জন্য ১৯৫৪ সালে এই স্কুলের জন্ম। বর্তমানে পড়ুয়া রয়েছে ৩৬১ জন। শিক্ষক ১৭ জন। সম্প্রতি ওই স্কুলের পড়ুয়াদের প্রতি মাসে শিক্ষামূলক সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্কুলের পড়ুয়াদের হিজলি জেল, সুভাষচন্দ্র বসু ও ভগত সিংহের জীবনী নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দেখানো হয়েছে। সিনেমার জন্য ভাড়া করা কম্পিউটার দেখে স্কুলের অনেক পড়ুয়া আগ্রহ প্রকাশ করে। তারপরই শিক্ষকেরা সিদ্ধান্ত নেন, পড়ুয়াদের কম্পিউটার শেখানো হবে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রসেনজিৎ দে বলেন, “ভবিষ্যতে কম্পিউটার ছাড়া আমরা এক পা-ও এগোতে পারব না। পড়ুয়াদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। আমরা আইআইটি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। আইআইটি চারটি কম্পিউটার দিয়েছে। সেগুলি দিয়েই একটি শ্রেণিকক্ষ মেরামত করে এই ব্যবস্থা করা হল।”

Advertisement

খড়্গপুর শহরের কোনও প্রাথমিক স্কুলে এখনও পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সুদীপ্তবাবু বলেন, “এখন বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা হিসেবে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ আবশ্যক হয়েছে। প্রাথমিক পড়ুয়াদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিষয়ে কথা চলছে।’’ তাঁর মতে, ‘‘স্কুলের উদ্যোগে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা প্রশংসনীয়। এই স্কুলকে মডেল করে অন্য স্কুলগুলির এ বিষয়ে এগিয়ে আসা উচিত।”

স্কুলের বেসিক ট্রেনিং প্রাপ্ত শিক্ষকদের এখন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে। তাই আপাতত স্কুলের শিক্ষকেরাই পড়ুয়াদের কম্পিউটার শেখাবেন। শুরুতে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়াদের সপ্তাহে একদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে সুযোগ পাবে অন্য শ্রেণির পড়ুয়ারাও। এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও। এ দিন পঞ্চম শ্রেণির রোহন দাস, চন্দ্রাণী পাঠকেরা বলে, “এত দিন হাইস্কুলের দাদারা কম্পিউটার জানে বলত। এ বার আমরাও কম্পিউটার শিখতে পারব। এটা ভেবেই ভাল লাগছে।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement