প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগে কলেজের পাঁচ পড়ুয়া গ্রেফতার হয়েছেন আগেই। তার জেরে এ বার র্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন হলদিয়ার সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিকস্ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ (সিপেট)-র প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা। সোমবার সকাল সাড়ে ন’টা থেকে ক্লাস বয়কট করে চলে বিক্ষোভ।
হলদিয়ার এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র অঙ্কিতকুমার সিংহকে হস্টেল থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল গত শুক্রবার। শনিবার কলেজেরই পাঁচ ছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে খুনের জন্য অপহরণের মামলা রুজু হয়। হলদিয়ার এই ঘটনা নজরে রয়েছে খোদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষাসচিব রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা কেন্দ্রকে চিঠি দেব।’’ ঘটনার নিন্দা করে তাঁর সংযোজন, ‘‘যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’’
এ দিন সকালেই ছাত্র-বিক্ষোভে তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। র্যাগিং বন্ধ এবং নিরাপত্তার দাবিতে ইউনিফর্ম পরেই বিক্ষোভে সামিল হন প্রথম বর্ষের প্রায় দেড়শো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, শুধু অঙ্কিত নন, প্রথম বর্ষের বেশিরভাগ পড়ুয়াকেই সিনিয়র দাদা-দিদিদের র্যাগিংয়ের মুখে পড়তে হয়। বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। দুপুরে বৈঠকে বসে কলেজের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি। কলেজের চিফ ম্যানেজার (প্রজেক্ট) দেবাশিস ভট্টাচার্য পরে জানান, ধৃত পাঁচ ছাত্রকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদালত চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। যে তিন অভিযুক্ত ছাত্র ধরা পড়েনি, তাদের বাড়িতে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান দেবাশিসবাবু।
পুলিশ আগেই জানিয়েছিল, ধৃতেরা অঙ্কিতকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের কথা কবুল করেছে। তবে কী কারণে মারধর তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধৃতদের মধ্যে অঙ্কিতের এক সহপাঠী রয়েছেন। অঙ্কিতের দাবি, সেই সহপাঠীর দাদার বিরুদ্ধে তিনি র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেছিলেন। তার ভিত্তিতে তিন ছাত্র সাসপেন্ডও হন। সেই আক্রোশেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করে কোলাঘাটের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও কলেজ ও হস্টেল সূত্রে খবক, একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েই অঙ্কিত ও তাঁর সেই সহপাঠীর বিরোধ। বিহারের বাসিন্দা ওই ছাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা মানলেও ঘনিষ্ঠতার কথা অবশ্য অস্বীকার করেন অঙ্কিত। তবে শুধু ওই কারণেই অঙ্কিতের উপর হামলা কিনা তা স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, ‘‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কী কারণে এই ঘটনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’
জখম অঙ্কিতকে এ দিন সকালে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে হলদিয়া মহকুমা আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওই ছাত্র। সামনেই কলেজে পরীক্ষা। পরীক্ষা দেবেন না বিহারে ফিরে যাবেন? উত্তর দেননি অঙ্কিত। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য ওই ছাত্রকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।