ছেলের চিকিৎসার জন্য কটকে গিয়েছিলেন মা। সঙ্গে ছিলেন আর এক ছেলে। ফেরার পথে গাড়ি উল্টে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল তিন জনেরই। মারা গিয়েছেন তাঁদের সঙ্গী এক গ্রামীণ চিকিৎসক ও গাড়ির চালকও।
শনিবার রাত সওয়া ৩টে নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর-পুরুনিয়া রাস্তায় এই দুর্ঘটনায় মৃত পাঁচ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার কসবাগোলার বাসিন্দা। মৃতেরা হলেন এগরার পাঁচরোল পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ গফ্ফর কাজির স্ত্রী মেহরুন্নিসা বিবি (৫৫), দুই ছেলে সনম কাজি (২২), আলম কাজি (২০), গ্রামীণ চিকিৎসক শেখ সাজ্জাদ হোসেন (৫৯) ও চালক সিরাজুল খান (২০)।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সনম কাজি টনসিলের অসুখে ভুগছিলেন। সাজ্জাদ উদ্যোগী হয়ে তাঁকে কটকের হাসপাতালে নিয়ে যান। গত বৃহস্পতিবার মা ও ভাইকে নিয়ে রওনা দেন সনম। শুক্রবার সকালে সনমের অস্ত্রোপচার হয়। রাতেই এগরা ফিরছিলেন সকলে। রাত আড়াইটে নাগাদ ওড়িশা সীমানা পেরনো সময়ও শেখ গফফরের সঙ্গে কথা হয় সাজ্জাদের। তিনি জানান, ভোরেই গ্রামে পৌঁছে যাবেন।
পৌঁছনো আর হয়নি। পুলিশের অনুমান, রাত জাগার ক্লান্তিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি নিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে গিয়ে পড়েন চালক। স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজ করেন। পরে পৌঁছয় পুলিশ। ওই পাঁচ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সিরাজুলের বাবা সর্দার খানের আক্ষেপ, “ছেলে দু’বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছে। কখনও এতটা রাস্তা গাড়ি চালায়নি। ক্লান্তির খেসারত জীবন দিয়েই দিল!”