ছাত্রীকে র‌্যাগিং, রিপোর্ট তলব বিশ্ববিদ্যালয়ের

আদিবাসী ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে গোপ কলেজের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকেও অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই করেছি। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিপোর্টও চেয়েছি। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অগস্ট ২০১৪ ০১:২০
Share:

আদিবাসী ছাত্রীকে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে গোপ কলেজের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকেও অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই করেছি। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিপোর্টও চেয়েছি। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

Advertisement

গোপ কলেজের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীকে হস্টেলে দ্বিতীয় বর্ষের দুই ছাত্রী র‌্যাগিং করছে বলে রবিবার মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানান আদিবাসী ছাত্রীটির বাবা। পুলিশ কলেজে তদন্তে যায়। পরে রবিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে ডেকে পাঠান পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। সঙ্গে তাঁর বাবাও ছিলেন। সোমবার ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, “মেয়েকে নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে গিয়েছিলাম। উনি সব শুনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।”

তবে ঘটনায় বিধ্বস্ত ওই আদিবাসী ছাত্রী রবিবার বিকেলেই হস্টেল ছেড়ে বাঁকুড়ার বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। এই কলেজে পড়া নিয়ে সংশয় প্রকাশও করেছেন ওই ছাত্রী। তবে ছাত্রীটি যাতে গোপ কলেজেই পড়াশোনা করে, কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর। আদিবাসী ওই ছাত্রীর বাবার কথায়, “কলেজ কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা ভরসা পাচ্ছি না। মেয়েকে অন্য কলেজে ভর্তি করার কথাই ভাবছি।”

Advertisement

এ দিকে, র‌্যাগিংয়ের অভিযোগের পরে হস্টেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন শিক্ষিকা রিনা পাল। রিনাদেবী গোপ কলেজের ইতিহাসের বিভাগীয় প্রধান। কলেজের পরিচালন সমিতি তাঁকে হস্টেল দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। ওই আদিবাসী ছাত্রীর বাবা পুলিশে যে অভিযোগপত্র দিয়েছেন, তাতে নাম রয়েছে ওই শিক্ষিকার। ছাত্রীটির বাবার দাবি, রিনাদেবী-সহ কলেজের কয়েকজন বিষয়টি জানলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেননি। রিনাদেবী র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি করেন। তারপর সোমবারই কলেজের অধ্যক্ষা কৃষ্ণা মাইতির সঙ্গে দেখা করে হস্টেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান তিনি। এ বিষয়ে রিনাদেবীর বক্তব্য, “এই প্রথম নয়, আগেও হস্টেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।” র‌্যাগিংয়ে অভিযুক্ত দুই ছাত্রী এদিন হস্টেলেই ছিলেন। ওই দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে কী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? অধ্যক্ষা কৃষ্ণাদেবীর জবাব, “তদন্ত চলছে।”

গত ২৪ জুন গোপ কলেজে শারীরবিদ্যা অনার্সে ভর্তি হন ওই আদিবাসী ছাত্রী। ৯ জুলাই থেকে তিনি হস্টেলে থাকা শুরু করেন। অভিযোগ, গোড়া থেকেই তাঁর রুমমেট, কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের দুই ছাত্রী তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করতে থাকেন। এ দিন মেদিনীপুরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসেছিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ তথা সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনিও বুঝিয়ে দেন, র‌্যাগিংয়ের ঘটনা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত ভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement