শিশু পড়ুয়াদের খালি পায়ে দেখতে পেয়ে তাদের জুতো দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা কার্যকর করতে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর গত ২৮ জানুয়ারি রাজ্যের সব প্রাথমিক স্কুল, শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের জন্য জুতো উদ্যোগী হয়েছে। আর জুতো পাওয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শিশুশ্রেণির পড়ুয়ারা।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর রাজ্যের সব জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে প্রাথমিক স্কুল, শিশুশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জুতো (ক্যানভাস সু) দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এজন্য প্রতিটি জেলার চক্র স্তরে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ও তাদের জন্য জুতোর নির্দিষ্ট মাপ জানিয়ে তালিকা তৈরি করে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই কর্মসূচি দেখভালের জন্য জেলাস্তরে অতিরিক্ত জেলাশাসক, সর্বশিক্ষা মিশনের জেলা প্রকল্প আধিকারিক ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশিকা দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশিকা অনুযায়ী জুতা প্রাপকদের তালিকা থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিশুশ্রেণির পড়ুয়ারা বাদ পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসইউসি প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তরফে শিশু শ্রেণির পড়ুয়াদের জুতো দেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
শিক্ষক সমিতির পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সতীশ সাহুর অভিযোগ, ‘‘একই বিদ্যালয়ে পাঠরত প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জুতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল। আর শিশুশ্রেণির পড়ুয়ারা তা থেকে বাদ দেওয়া হল। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অমানবিক।’’ সমস্যার কথা মানছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি মানস কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্রে পাঠরত শিশুশ্রেণির পড়ুয়াদের জুতো দেওয়ার সরকারি নির্দেশিকা নেই। এ বিষয়ে শিক্ষক সংগঠনের তরফে অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরকে জানিয়েছি।’’
সিআরপির জনসংযোগ। শনিবার লালগড়ে সিআরপি-র ৫০ নম্বর ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে এক জনসংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকার জঙ্গল লাগোয়া তাড়কিলতা, পূর্ণাপানি, ঢ্যাংবহড়া, ধানঘোরি, জামশুলি গ্রামের সাড়ে আটশো বাসিন্দাকে বাসনপত্র, পোশাক, কম্বল, স্কুল পড়ুয়াদের ইউনিফর্ম, খেলার সামগ্রী-সহ নানা পরিষেবা তুলে দেন ডিআইজি (সিআরপি) বিডি দাস।