জমি সঙ্কটে দায়ী শরিকি মালিকানা, দাবি

আটকে থাকা সরকারি প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণ করতে জমি কেনা দরকার। দেরিতে হলেও সে কথা বুঝেছে সরকার। তাই প্রায় এক বছর আগে সিদ্ধান্ত হয়েছে বাজার মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দাম দেওয়া হবে জমির মালিককে।

Advertisement

সুমন ঘোষ

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১৪
Share:

নিজস্ব চিত্র।

আটকে থাকা সরকারি প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণ করতে জমি কেনা দরকার। দেরিতে হলেও সে কথা বুঝেছে সরকার। তাই প্রায় এক বছর আগে সিদ্ধান্ত হয়েছে বাজার মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দাম দেওয়া হবে জমির মালিককে। কিন্তু তাতেও তেমন সাফল্য আসেনি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পে জমি কেনার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ন’টি।

Advertisement

বালিচক বা ঝাড়গ্রামে রেললাইনের উপর উড়ালপুল কবে হবে তা জানা নেই। ২০০২ সালে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল দাসপুরের যশাড়ে। ২০০৩ সালে ডেবরার লোয়াদাতে সেতু নির্মাণ শুরু হয়। ১২ বছর পরেও সেতু দু’টি চালু করা যায়নি! কারণ, সংযোগকারী রাস্তা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি মেলেনি। তবে সুবর্ণরেখা নদীর উপর ভসরাঘাটে যে সেতুটি হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে সমস্যা হয়নি। সংযোগকারী রাস্তার জন্য জমি কেনার কাজ শেষ।

ভসরাঘাটের উদাহরণ টেনে প্রশাসন চাইছে সাফল্যকে বড় করে দেখাতে। জেলা সভাধিপতি উত্তরা সিংহ নিজেও সাফল্যের জন্য পাঁচটি প্রকল্পকেই সামনে রাখছেন। তাঁর কথায়, “এক একটি প্রকল্পে কয়েক একর জমির প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে কৃষকের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনই রয়েছেন একাধিক শরিক। সকলকে বুঝিয়ে জমি কিনতে কিছুটা সময় লাগছে।’’ তবে তিনি আশাবাদী, মানুষ উন্নয়ন চাইছেন। তাই জেলায় জমি কেনার ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলেছে।

Advertisement

বর্তমান বাজার দরের থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দামে জমি কেনা হলে মুনাফার আশায়, বিতর্ক ছাড়াই সকলে জমি দিতে রাজি হবেন বলে সরকারের ধারণা। সে ক্ষেত্রে সব ক্ষমতা দেওয়া হয় শহরাঞ্চলে পুরসভা ও গ্রামীণ এলাকায় জেলা পরিষদের হাতে। ২০১৪ সালে রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের এক নির্দেশিকায় (মেমো নং ৩১৪৫, ২৪/১১/২০১৪) ফলে জেলা পরিষদ (পঞ্চায়েত আইনের ২১২ ধারা অনুযায়ী) ও পুরসভা (৪২৯ ধারা অনুযায়ী) সরাসরি জমির মালিকের কাছ থেকে জমি কিনতে পারে। এরপরই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৪টি প্রকল্পের জন্য জমি কেনার অনুমতি দেয় সরকার।

কিন্তু এক বছর পরেও তেমন সাফল্য মেলেনি। সাফল্য এত কম কেন?

Advertisement

উত্তরা সিংহের সঙ্গে একমত জেলা পরিষদের অন্য কর্তারাও। জমি কেনার ক্ষেত্রে শরিকি সমস্যাই প্রধান বলে দাবি করেছেন তাঁরা। জমির মালিকরা অনেক ক্ষেত্রেই থাকেন জেলার বাইরে। সকলকে এক সঙ্গে এনে বোঝানো, তারপর একসঙ্গে নিয়ে গিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করা— সব মিলিয়ে ঝক্কি কম নয়। তাই সময়ও লাগছে। জেলা সভাপতি অবশ্য বারবার দাবি করেছেন সব ক্ষেত্রেই সাফল্য আসবে।

যদিও বালিচক ও ঝাড়গ্রামের উড়ালপুলের জন্য জমি পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এই দু’টিই শহরে। ফলে সেখানে জমি নিতে গেলে ভাঙতে হবে বহু বসত বাড়ি। বহু পুরনো দোকান বাজারও রয়েছে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার মধ্যে। আবার উড়ালপুলও জরুরী। এলাকার মানুষই আবেদন করেছেন। অনুমতি দিয়েছে রেলও।

কিন্তু জমি না পেলে কী ভাবে তা হবে? জেলা পরিষদের দাবি, ভসরাঘাট সেতু, গোপীবল্লভপুরের রাস্তার মতোই এ ক্ষেত্রেও মানুষ বুঝে নিজেরাই জমি দেবেন। এ ব্যাপারে জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। বর্তমান সরকারের জমি নীতির কারনেই যে জমি পেতে এত ঝক্কি পোয়াতে হচ্ছে তা অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন সকলেই। জেলার এক পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, “জমি অতি সংবেদনশীল বিষয়। অতি সন্তর্পনে, সকলকে বুঝিয়ে রাজি করানোর পরই রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।’’ ফলে বার বার বৈঠক করতে হচ্ছে। দীর্ঘায়িত হচ্ছে জমি কেনার সময়। ওই আধিকারিক বলছেন, ‘‘১৪টি প্রকল্প, দেরি তো হবেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement