ধুঁকছে শিল্প, শ্রমিক আন্দোলনের ডাক

নতুন কারখানা সে ভাবে হচ্ছে না। উল্টে একের পর এক চালু কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কাজ হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুরে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

মেদিনীপুর শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৪ ০০:০৪
Share:

নতুন কারখানা সে ভাবে হচ্ছে না। উল্টে একের পর এক চালু কারখানা বন্ধ হচ্ছে। কাজ হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম মেদিনীপুরে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিল বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলো।

Advertisement

সিটু, এআইটিইউসি, আইএনটিইউসি-সহ নানা ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে শনিবার মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হলে এক কনভেনশন হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অগস্ট মাসের শেষে জেলার বন্ধ কারখানাগুলো খোলার দাবিতে সমাবেশ হবে। জেলাশাসক এবং ডেপুটি লেবার কমিশনারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হবে। অগস্টের গোড়ায় মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্ব এক বৈঠকে বসবেন বলেও জানা গিয়েছে। সেখানে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে। কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন দীপক সরকার, সন্তোষ রাণা, শক্তি ভট্টাচার্য প্রমুখ।

বছর কয়েক আগে জিন্দল প্রকল্প ঘিরে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল জেলায়। প্রস্তাবিত এই ইস্পাত প্রকল্প এখন সে ভাবে এগোচ্ছে না। অন্য দিকে, খড়্গপুরে বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বহু জমি পড়ে রয়েছে। নতুন শিল্প আসছে না। অথচ, বাম আমলে শিল্পায়নের জন্যই এখানে জমি অধিগ্রহন করা হয়েছিল। কনভেনশনে দীপক সরকার বলেন, “অর্জিত অধিকার রক্ষা করতে হবে। এ জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তাঁর কথায়, “রাজ্য সরকারের শিল্পনীতি ও উদ্যোগহীনতা পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পহীনতার পথে নিয়ে চলেছে।” সন্তোষ রাণা বলেন, “রাজ্য সরকারের সঠিক উদ্যোগের অভাবে শিল্প-পুঁজি অন্য রাজ্যে জায়গা খুঁজে নিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় শ্রমিক কখনও নীরব থাকতে পারে না। কলকারখানা-শিল্প বন্ধ হওয়ার বিরুদ্ধে, রাজ্য সরকারের উদ্যোগহীনতার বিরুদ্ধে, এখানকার শ্রমিকের অর্জিত মুনাফা অন্যত্র চালান ও বিনিয়োগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিককেই এগিয়ে আসতে হবে।”

Advertisement

শক্তি ভট্টাচার্য বলেন, “গত তিন বছরে রাজ্যে নতুন শিল্পের প্রসার প্রায় বন্ধ। জিন্দলদের কারখানা হওয়ার কথা ছিল শালবনিতে। এখনও পর্যন্ত কিছুই হয়নি।” কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির জন্য একদিকে যেমন নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে তেমন হাজার হাজার কর্মরত শ্রমিক রুজিরুটি হারাচ্ছেন।

বিধানসভায় রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর স্বীকৃতি যে বিগত মার্চ মাস পর্যন্ত ২৭৮টি বড় ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। নেতৃত্বের মতে, প্রায় সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকের বেতন বকেয়া থাকছে। এই অবস্থায় পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে ডাক দেন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্ব।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন