ঘটনাস্থলে পুলিশের তল্লাশির ছবিটি তুলেছেন রামপ্রসাদ সাউ।
রাত তখন সাড়ে দশটা। এই সময়ে মেদিনীপুর শহর জমজমাটই থাকে। তবে বুধবার রাতটা ছিল একটু আলাদা। প্রায় প্রতিটি বাড়ির টিভিতে চলছিল আর্জেন্তিনা-নাইজিরিয়া বিশ্বকাপের খেলা। কাজপত্তর আগে থেকে গুছিয়ে চলছিল জমিয়ে খেলা দেখা। মেসির গোলের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিল বাজি ফাটানোও।
আর এই সময়েই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খুন হয়ে গেলেন শহরের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী। বুধবার রাতে মেদিনীপুর শহরের পাটনাবাজার এলাকার এই ঘটনায় নিহতের নাম স্বপন পাণ্ডব (৩৮)। শহরের বটতলাচকে তাঁর সোনার দোকান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির কিছু দূরে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃীতরা। গুলি করার পর ওই ব্যবসায়ীর মোটরবাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় তারা। রাতেই দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় মেদিনীপুর মেডিক্যালে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছিনতাই-ই ছিল দুষ্কৃতীদের মূল উদ্দেশ্য। জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বলেন, “শহরের ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার তদন্ত চলছে।”
বুধবার রাতে যখন ঘটনাটি ঘটে তখন বিশ্বকাপে মশকুল সারা শহর। ততক্ষণে মেসির পা থেকে গোলও এসেছে। তাই বিকট আওয়াজ শুনে অনেকেই মনে করেছিলেন, আনন্দে কেউ পটকা ফাটিয়েছেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন দেখেন, মহাপ্রভু মন্দিরের অদূরে রাস্তার উপর স্বপনবাবুর দেহ পড়ে রয়েছে। স্বপনবাবুর সঙ্গে একটি ব্যাগে নগদ টাকা এবং সোনার গয়না ছিল। সেই ব্যাগ নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতে স্বপনবাবুর সঙ্গে দোকানের দুই কর্মচারী ছিলেন। স্বপনবাবু ছিলেন মোটরবাইকে। দুই কর্মচারী ছিলেন সাইকেলে। বেশ কিছুটা রাস্তা তিনজনে একসঙ্গে আসেন। ঘটনার সময়ও এক কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে ছিলেন। গুলির শব্দে তিনিও হকচকিত হয়ে পড়েন।
পারিবারিক অ্যালবামে স্বপন পাণ্ডব।
পুলিশের অনুমান, দুই দুষ্কৃতীর একজন নিহত ব্যবসায়ীর পরিচিত ছিলেন। ওই পরিচিতর কথা মতোই স্বপনবাবু বাইক নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। তখনই খুব কাছ থেকে তাঁকে গুলি করা হয়। গুলি লেগেছে গলার ঠিক নীচে। পুলিশের অনুমান, পরিচিত মুখ না হলে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী কখনওই বাইক নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়তেন না। বৃহস্পতিবার সকালে রেলসেতু সংলগ্ন কংসাবতী নদীর পাশ থেকে বাইকটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটকও করা হয়েছে। পুলিশ কুকুর এনে তদন্ত চালানো হয়। রেলসেতু সংলগ্ন কংসাবতী নদীর পাশে যে এলাকা থেকে স্বপনবাবুর মোটর বাইকটি উদ্ধার হয়, আটক দুই যুবককে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের পাশে আরও বেশ কয়েকজন দাঁড় করানো হয়। সেখানে পুলিশ কুকুরও ওই দু’জনকে চিহ্নিত করে।
সাম্প্রতিক অতীতে মেদিনীপুরে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসে চৌরঙ্গির অদূরে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে মারে দুষ্কৃতীরা। তার আগে খরিদা এলাকাতেও খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে মেদিনীপুর শহরে এ ভাবে কোনও স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুনের মতো ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। মৃত স্বপনবাবু সম্পর্কে শহরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বনাথ পাণ্ডবের খুড়তুতো ভাই হন। বিশ্বনাথবাবুর স্ত্রী লিপিকা পাণ্ডব ওই এলাকার বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর। খোদ শহরের বুকে ব্যবসায়ী খনের এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিভিন্ন মহল। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গভীর রাতে এলাকায় আসেন জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। স্থানীয়রা এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।