বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অবস্থান বামেদের

দিন কয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা এবং পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জেলার সর্বত্র শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছিলেন বাম-নেতৃত্ব। এ বার জেলা সদরে অবস্থান-বিক্ষোভ করে গণ প্রতিরোধের ডাক দিলেন তাঁরা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০১৪ ০০:১৩
Share:

মেদিনীপুরে অবস্থান বিক্ষোভে বাম নেতৃত্ব। —নিজস্ব চিত্র।

দিন কয়েক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা এবং পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জেলার সর্বত্র শান্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছিলেন বাম-নেতৃত্ব। এ বার জেলা সদরে অবস্থান-বিক্ষোভ করে গণ প্রতিরোধের ডাক দিলেন তাঁরা। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক দীপক সরকার জানান, মেদিনীপুরে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া নিয়েও টানাপড়েন চলেছে। ১৯ জুন অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল ৩ জুলাই অবস্থান-কর্মসূচি হবে। অথচ অনুমতি দেওয়া হল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে। দীপকবাবুর মতে, “এ সব আগামী দিনে আরও বাড়বে। তবে এ ভাবে বামপন্থীদের দমিয়ে রাখা যায় না। সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এখনই মানুষের পথে নামা প্রয়োজন।”

Advertisement

তৃণমূলের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল জেলা বামফ্রন্ট। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। লোকসভা ভোটে জেলার তিন কেন্দ্রে বিপর্যয়ের পরে বৃহস্পতিবারই প্রথম জেলা সদরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করে বামেরা। বৃষ্টির এবং এই কর্মসূচি থেকে নিজেদের উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেছেন বাম-নেতৃত্ব। এ দিন বিক্ষোভ-সভায় নেতৃত্বের বক্তব্যের মাঝে মাঝে কখনও গণসঙ্গীত হয়েছে, কখনও উঠেছে স্লোগান ‘তোরা (তৃণমূল) তো ঘর জ্বালানোর লোক, তোরা এই বাংলার করবি কী?’।

এ দিন শহরের গাঁধী মূর্তির পাদদেশের সামনে মঞ্চ বেঁধে অবস্থান-কর্মসূচি করেন নেতৃত্ব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক দীপকবাবুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সিপিআইয়ের জেলা সম্পাদক সন্তোষ রাণা, আরএসপির জেলা সম্পাদক শক্তি ভট্টাচায। ছিলেন দুই প্রাক্তন সাংসদ প্রবোধ পণ্ডা, পুলিন বিহারী বাস্কেও। এ দিন কর্মসূচির পুরো সময় ধরে অবস্থান-মঞ্চে বসে ছিলেন ফ্রন্টের জেলা নেতৃত্ব। সকাল থেকেই মেদিনীপুরের আবহাওয়া ছিল দুর্যোগপূর্ণ। দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। তারই মধ্যে চলে অবস্থান। মঞ্চের সামনে ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রচুর ঘরছাড়া বাম কর্মী-সমর্থক। ঘরছাড়াদের দলে ছিলেন তপন ঘোষ, সুকুর আলির মতো একদা গড়বেতার দাপুটে সিপিএম নেতা।

Advertisement

বিভিন্ন প্রসঙ্গে এ দিন তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন বাম-নেতৃত্ব। দীপকবাবুর দাবি, গত এক মাসে নতুন করে সাড়ে তিন হাজার কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়েছেন। ১,২৯৬ জনকে প্রায় ৭ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের ২১৫টি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৫৫ জন শিক্ষক স্কুলে যেতে পারছেন না। ৬ হাজার কর্মীর নাম মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। সিপিআইয়ের জেলা সম্পাদক সন্তোষ রাণা বলেন, “একদিকে রাজ্য সরকার জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারও জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলছে।” ছিলেন আরএসপির জেলা সম্পাদক শক্তি ভট্টাচার্যও। বাম নেতৃত্ব তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের বিতর্কিত মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement