বরাদ্দ কম, সংশয়ে অসমাপ্ত রেলপ্রকল্পের কাজ

রেলবাজেটে বরাদ্দ মিলেছে সামান্য। তাই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন অসমাপ্ত রেল প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। মঙ্গলবার রেল বাজেটে জেলার চারটি প্রকল্প দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম নতুন রেললাইন নির্মাণ, তমলুক-দিঘা রেলপথের সংস্কার, নন্দকুমার-বলাইপণ্ডা (ময়না) ও নন্দীগ্রাম-সোনাচূড়া নতুন রেললাইন তৈরির জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশপ্রাণ (বাজকুল)- নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের শিলান্যাস করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

তমলুক শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০১৪ ০১:১০
Share:

রেলবাজেটে বরাদ্দ মিলেছে সামান্য। তাই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন অসমাপ্ত রেল প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

Advertisement

মঙ্গলবার রেল বাজেটে জেলার চারটি প্রকল্প দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম নতুন রেললাইন নির্মাণ, তমলুক-দিঘা রেলপথের সংস্কার, নন্দকুমার-বলাইপণ্ডা (ময়না) ও নন্দীগ্রাম-সোনাচূড়া নতুন রেললাইন তৈরির জন্য মাত্র ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশপ্রাণ (বাজকুল)- নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের শিলান্যাস করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলমন্ত্রী এক বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর। দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়া তো দূরের কথা, প্রকল্পের অর্ধেক কাজও এখনও হয়নি।

দেশপ্রাণ (বাজকুল) -নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পে ১৭.৫ কিলোমিটার নতুন রেলপথ তৈরির জন্য প্রায় ১২১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। ওই বিশেষ রেলপ্রকল্পের জন্য ১৮১ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। অধিগ্রহণের সময় জমিদাতাদের পরিবার পিছু একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতিমতো জমিদাতা পরিবারের অনেকেই ইতিমধ্যে রেলে চাকরিও পেয়েছেন। ওই রেলপ্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজের অধিকাংশই সম্পূর্ণ হয়েছে। রেললাইনের জন্য নন্দীগ্রামের কাছে কিছুটা এলাকায় মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। তবে ওই রেলপথের এক কিলোমিটার অংশের কাজও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। নন্দীগ্রামে স্টেশন তৈরি চলছে ঢিমেতালে।

Advertisement

এবারের রেল বাজেটেও বরাদ্দ কম হওয়ায় এই রেলপ্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা। নন্দীগ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় যেভাবে রেলপ্রকল্পের কাজে গতি এসেছিল, পরে তা কমে যায়। আর গত কয়েকমাস ধরে প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ। এই অবস্থায় এবার রেল বাজেটে বরাদ্দ কম হওয়ায় রেলপথের কাজ কবে সম্পূর্ণ হবে বুঝতে পারছি না।” ওই রেলপ্রকল্পের জমিদাতা নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা উত্তম বেরা বলেন, “জমি অধিগ্রহণ, চাকরি দেওয়া নিয়ে নানা সমস্যার কারণে এমনিতেই রেলপ্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়েছে। তাঁর উপর এবার বাজেটে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ কম হওয়ায় রেলপ্রকল্পের কাজ আদৌ সম্পূর্ণ হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।” নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা আবু তাহের বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষের জমিরক্ষা আন্দোলনের পর তৃণমূল নেত্রী তথা রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিশেষ রেলপ্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন প্রকল্পের কাজ ভাল এগোচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমাদের দল কেন্দ্রের কংগ্রেস জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার পর এই রেলপ্রকল্পের কাজের গতি কমে যায়। এবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারও রেল বাজেটে দেশপ্রাণ- নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তবে তা দিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।”

আবু তাহের জানান, এই রেল প্রকল্প ছাড়াও জেলিংহামে রেলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানার কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দেও বঞ্চনা করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই বঞ্চনার প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই নন্দীগ্রামে আন্দোলনে নামা হবে। ২০১১সালের রেলবাজেটে ঘোষিত নন্দীগ্রাম-সোনাচূড়া ও তমলুক-দিঘা রেলপথে নন্দকুমার স্টেশন থেকে ময়নার বলাইপণ্ডা পর্যন্ত নতুন রেললাইন তৈরির প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দুই রেললাইনের জন্য প্রাথমিক সমীক্ষার কাজও হলেও কাজ এখনও শুরুই হয়নি। কিন্তু এবার বাজেটে ওই সব রেলপ্রকল্পের জন্য সামান্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তাই ওই সকল প্রকল্পের ভবিষ্যত কী, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে। ময়নার বলাইপণ্ডা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ সামন্ত বলেন, “নন্দকুমার থেকে বলাইপণ্ডা রেলপথ হলে রেল মানচিত্রে ময়নার স্থান হবে। কিন্তু এবার রেল বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ফলে এই প্রকল্প কবে রূপায়ণ হবে তা বুঝতে পারছি না।”

যদিও বিজেপি’র পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বলেন, “রেল বাজেটে আমাদের জেলার রেলপ্রকল্পগুলিতে অর্থ বরাদ্দে বঞ্চনার অভিযোগ ঠিক নয়। এইসব রেলপ্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে বর্তমান রাজ্য সরকারের জমি নীতির জন্য প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই প্রকল্পের কাজ শুরুর জন্য প্রথমে কম অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, যাতে প্রকল্পগুলি চালু করা যায়।” সুকুমারবাবুর দাবি, বর্তমানে দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের কাজও জমি জটেই আটকে রয়েছে। রাজ্য সরকার রেলপ্রকল্পের জন্য জমির নিশ্চয়তা দিলে আমরা রেলমন্ত্রীর কাছে গিয়ে দরবার করে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করব।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন