খাতায় কলমে নিষিদ্ধ। তবু আজও চলছে ছাগ বলি। কালীপুজোর আগে চাহিদা বাড়ায় চড়ছে ছাগলের দরও।
গ্রাম থেকে শহর- সব জায়গাতেই কমবেশি বলির রেওয়াজ রয়েছে। অনেক বাড়ির পুজোতও বলি হয়। অনেক সর্বজনীয় পুজোয় আবার আট-দশটি ছাগ বলিও হয়। জোগানের তুলনায় চাহিদা কম থাকায় দামও আকাশছোঁয়া। বছরের অন্য সময় পাঁচ কিলোগ্রাম ওজনের একটি ছাগলের যেখানে দাম পড়ে আড়াই-তিন হাজার টাকা। এখন সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকায়। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকাতেই ছাগলের দাম চড়ছে বলে মত এক ব্যবসায়ীর। অনেকে আবার টাকা বাঁচাতে পুজোর অনেকদিন আগে থেকেই ছাগল কিনে রাখেন। তবে তাতেও সমস্যা রয়েছে। শহরের এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘আগে থেকে ছাগল কিনে রাখলে পরিচর্যার সমস্যা রয়েছে। তাই পুজোর আগে বেশি দাম দিয়েই ছাগল কিনতে হয়।’’ বলি প্রসঙ্গে বন দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘আইন অনুসারে ছাগলকে বন্যপ্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।’’ নিরুত্তর প্রশাসনও।
দুর্গাপুজোর মতো না হলেও পশ্চিম মেদিনীপুরে অনেক কালীপুজোও হয়। ঘাটাল ছাড়াও দাসপুর, চন্দ্রকোনা, গোয়ালতোড়েও পুজো উপলক্ষে প্রস্তুতি তুঙ্গে। অনেক জায়গায় মেলাও বসে। হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। ঘাটাল শহরের কুশপাতায় স্থায়ী কালী মণ্ডপে প্রতি বছর ৩০-৪০টি ছাগ বলি হয়। পুজো কমিটির পক্ষে রথিন মিত্র বলেন, “মনোস্কামনায় অনেকেই ছাগল বলি দেন। তাই বলির সংখ্যাও বেশি হয়।’’ ক্ষীরপাই শহরের ঘুঘুডাঙা কালীমন্দিরে এ বার গোটা পঞ্চাশেক ছাগ বলি হওয়ার কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটালের এক সর্বজনীনের সদস্যের কথায়, “বলি নিষিদ্ধ, সেটা আমরাও জানি। তবে প্রশাসন কোনও বাধা না দেওয়ায় বলির রেওয়াজ রয়েই গিয়েছে।’’